পূর্ব জেরুজালেমের চার এলাকা ছাড়তে ইসরায়েলকে প্রস্তাব দেবেন ট্রাম্প

মে মাসেই তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে ইসরায়েলি দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় তার আখ্যায়িত ‌‌‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’র বিস্তারিত জানাবেন। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, পরিকল্পনার আওতায় দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের চারটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিলিস্তিনিদের কাছে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেবেন ট্রাম্প।ইসরায়েল অধিকৃত জেরুজালেম
গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেন। এ স্বীকৃতির পর বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইসরায়েলের দখলকৃত জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী স্থাপন করতে চায়। বিশ্ব সম্প্রদায়ও ইসরায়েলের এই দখলদারিত্বকে বৈধতা দেয়নি। ট্রাম্পের ঘোষণার পর ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জানিয়ে দেন, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একক মধ্যস্ততা আর মানবেন না তারা। তা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য শতাব্দীর সেরা চুক্তি নামে একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র।

জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিজদর লাইবারম্যানের ওয়াশিংটন সফরের সময়ে মার্কিন কর্মকর্তারা তাকে এই প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্রাম্পের পরিকল্পনার আওতায় পূর্ব জেরুজালেমের জেবেল মুকাবার, ইসাউইয়া, সুয়াফাত ও আবু দিসের নিয়ন্ত্রণ ফিলিস্তিনিদের কাছে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে। এই অঞ্চলকেই ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করবার প্রস্তাব থাকবে ওই চুক্তিতে।  

এই পরিকল্পনার পুরোটা প্রকাশ করা না হলেও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পরিকল্পনার আওতায় আবু দিসকে রাজধানী করবার প্রস্তাব দেওয়া হবে তাদের। এই পরিকল্পনা নিয়ে আব্বাসের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম মার্কিন মিত্র সৌদি আরব ও ট্রাম্পের জামাতা জারের্ড কুশনার, ট্রাম্পের উপদেষ্টা জেশন গ্রিনব্লাট ও ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূত ডেভিড ফ্রেইডম্যান।

মধ্যপ্রাচ্যের খবর পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, আগামী ১৪ মে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। দূতাবাস সরিযে নেওয়ার পর ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছেন, এখনও এই পরিকল্পনা পুরোপুরি তৈরি করা হয়নি তবে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মিডলইস্ট মনিটর জানায়, সিরিয়া ও ইরানের সঙ্গে সংঘাতে সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে এই চুক্তি বাস্তবায়নে প্রলুব্ধ করতে পারে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা তেল আবিবকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি উন্নত যুদ্ধ সরঞ্জাম সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া সিরিয়ায় ইরানের উপস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার প্রস্তাবের মাধ্যমে ইসরায়েলকে প্ররোচিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।