এইচআরডব্লিউ'র মানবাধিকারকর্মীকে ১৪ দিনের মধ্যে ইসরায়েল ছাড়ার নির্দেশ

নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিনিধিকে ১৪ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরায়েলকে বর্জন করার এক ক্যাম্পেইনকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে সোমবার (৭ মে) ওমর শাকির নামের ওই মানবাধিকারকর্মীকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমর শাকির তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা বন্ধ রাখতে ইসরায়েল এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ইসরায়েল সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

ওমর শাকির
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংক্রান্ত পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন ওমর শাকির। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তিনি। গত বছর ইসরায়েল শুরুতে শাকিরকে ওয়ার্ক পারমিট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ইসরায়েলের ওই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে ইসরায়েল শাকিরকে এক বছরের জন্য ওয়ার্ক ভিসা দেয়। সোমবার ওমর শাকিরের ওয়ার্ক পারমিট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ১৪ দিনের মধ্যে তাকে ইসরায়েল ছাড়তে বলা হয়েছে।

ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরিয়েহ ডেরি বলেন, কৌশল বিষয়ক মন্ত্রী গিলাড এরডানের সুপারিশ মোতাবেক তিনি কাজ করেছেন। গিলাড এরডানের দফতরের দাবি, শাকির যে ইসরায়েল বর্জন কর্মসূচিকে বেশ কয়েক বছর ধরে সমর্থন করেছেন সে ব্যাপারে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

এক বিবৃতিতে আরিয়েহ ডেরি বলেন, ‘বয়কটের পক্ষে সক্রিয় থাকা ব্যক্তিকে ইসরায়েলে থাকার অনুমতি দেওয়াটা অচিন্তনীয়। কারণ, সম্ভাব্য সকল পথ ব্যবহার করে তিনি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে পারেন। এ ধরনের মানুষদের দেশ থেকে বহিষ্কারের জন্য আমি সব ধরনের উপায় কাজে লাগাব।’   

অভিযোগ অস্বীকার করে শাকির বলেন: ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আমি কোনও ধরনের ইসরায়েল বর্জনের ডাক দিইনি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাকে লেখা চিঠিতে তা স্বীকারও করেছেন। সেখানে তারা আমাকে জানিয়েছেন, আমার ওয়ার্ক ভিসার মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, তারা শাকিরের পাশে আছে। সংগঠনটির প্রোপ্রাম ডিরেক্টর আয়ান লেভিন বলেন, ‘এটি শুধু শাকিরের বিষয় নয় বরং তা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মুখ বন্ধ করা এবং ইসরায়েলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা রোধ করার প্রচেষ্টা।’