যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র উত্তর কোরিয়া সফরকালে দেশটিতে আটক তিন মার্কিন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। বৃহস্পতিবার তাদের নিয়ে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে পম্পেও’র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের আসন্ন সাক্ষাতের আগে এ পদক্ষেপ নিলো পিয়ংইয়ং।
পিয়ংইয়ং-এর এ পদক্ষেপকে আসন্ন কিম-ট্রাম্প বৈঠকের জন্য ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
মুক্তিপ্রাপ্ত তিনজন হলেন কিম ডং-চুল, কিম হক-সং, টনি কিম এবং কিম ডং-চুল। গোয়েন্দা কার্যক্রম ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে কিম ডং-চুলকে ২০১৫ সালে এবং বাকি দুইজনকে ২০১৭ সালে আটক করা হয়। তবে তারা সবাই সুস্থ রয়েছেন। দেশে ফেরার পর ট্রাম্প নিজেই স্বাগত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
টুইটারে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, পম্পেও চমৎকার তিনজন মানুষকে নিয়ে দেশে ফিরছেন, যাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠকের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে উত্তর কোরিয়ায় এ সফরে যান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরে কোরীয় উপদ্বীপ থেকে পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে সংলাপের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পারবেন বলে আশাবাদী পম্পেও।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রধান হিসেবে গত মাসে উত্তর কোরিয়া সফরের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার গেলেন পম্পেও। ২০০০ সালের পর এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ।
পম্পেও’র সঙ্গে উত্তর কোরিয়া সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও এমন আভাস শুনতে পাবে যে, উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষার যথেষ্ট পরিবর্তন করেছে।
ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প পম্পেও’র উত্তর কোরিয়া সফরের ব্যাপারে কথা বলেছেন। ওই সময় ট্রাম্প বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠছে বলে আমরা মনে করছি।’
কিমের সঙ্গে আসন্ন সফর সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, আমরা বৈঠকের বিষয়টি ঠিক করেছি। স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। সময় ও তারিখসহ সবকিছু নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা দেখবো এটা কেমন কাজ করে। এটা কাজ নাও করতে পারে। তবে তা উত্তর কোরিয়, দক্ষিণ কোরিয়া ও পুরো বিশ্বের জন্য দারুণ কিছু হবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে উত্তর কোরীয় নেতা কিম চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন।