আবারও মহাকাশযাত্রার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) বঙ্গবন্ধু-১। সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে। ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে এটি যাত্রা করবে।
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছালে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। আর এমন দৃশ্যের সাক্ষী হতে শুক্রবার রাতে অগুনতি চোখের নজর থাকবে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে।
এর আগে সব প্রস্তুতি থাকার পরও বৃহস্পতিবার (১০ মে) দিবাগত রাতে শেষ মুহূর্তে আটকে যায় স্যাটেলাইটটির উৎক্ষেপণ। কারিগরি জটিলতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা স্পেসএক্স। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ জানিয়েছেন, উৎক্ষেপণের একেবারে চূড়ান্ত পর্বে এসে গ্রাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা হওয়ায় আকাশে উড়তে পারেনি স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।
উৎক্ষেপণ স্থগিতের পর স্পেসএক্স এক টুইট বার্তায় বলেছে, ‘ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া এক মিনিট আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থমকে যেতে হয়েছে। রকেট এবং পেলোড ভালো অবস্থায় আছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ১৪ মিনিটে আবারও উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে একটি দল কাজ শুরু করেছে।’
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর উৎক্ষেপণ সরাসরি দেখতে পারেন স্পেসএক্সের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে:
নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘রকেট উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কেননা, এখানে কোনও ধরনের ঝুঁকি নেওয়া যায় না।’
বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্রে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, গ্রাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটিজনিত কারণে ১০ মে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয়নি। পুরো বিষয়টি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত। কম্পিউটার ইতিবাচক সংকেত না দেওয়ায় উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়। শুক্রবার (১১ মে) নির্ধারিত সময়ে উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মূলত একটি কমিউনিকেশন ও ব্রডকাস্টিং স্যাটেলাইট। বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের তথ্যমতে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম), ভিডিও সম্প্রচার, ভি-স্যাট নেটওয়ার্ক, ব্রডব্যান্ড, কমিউনিকেশন ট্র্যাংক সেবা দেওয়া যাবে।