সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল ও জর্ডান সীমান্তবর্তী এলাকায় শুধুমাত্র সিরিয়া সরকারি সেনাবাহিনী থাকতে পারবে বলে জানিয়েছে তাদের প্রধান মিত্র রাশিয়া। সোমবার মোজাম্বিকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনদুনগুয়া পাচেও এর সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাবরভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব বার্তা সংস্থা আরআইএ-র বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।
এর আগে গত রবিবার হারেৎজের খবরে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্ত থেকে ইরানি বাহিনী ও তাদের সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের দূরে সরাতে রাশিয়া আলোচনায় আগ্রহী। হারেৎজ দাবি করছে গত ১০ মে সিরিয়ায় ইরানি স্থাপনার ওপর চালানো ইসরায়েলের হামলার পর নিজেদের অবস্থানে পরিবর্তন এনেছে রাশিয়া। রাশিয়ার আশঙ্কা সিরিয়ায় ইসরায়েলের আরও হামলা সিরিয়ায় তাদের মিত্র আসাদের ক্ষমতার স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে রাশিয়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করে যাচ্ছে। রুশ কর্তৃপক্ষ ইসরায়েল সীমান্ত থেকে ইরানিদের সরাতে চাইলেও পুরো দেশ থেকে তাদের সমর্থিত বাহিনীগুলোকে সরাতে চাইবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিরিয়ার কেন্দ্রস্থলে আসাদ সমর্থিত বাহিনী বিদ্রোহীদের পরাজিত করতে থাকলে গত নভেম্বরে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র জর্ডানের সহায়তায় দক্ষিণ সিরিয়ায় যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সংখ্যা কমিয়ে আনার বিষয়ে সম্মত হয়। ইসরায়েল দাবি করে গোলান মালভূমিতে তাদের সীমান্ত থেকে ইরান ও শিয়া মিলিশিয়াদের কমপক্ষে ৬০ কিলোমিটার দূরে থাকতে হবে।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী সিরিয়াতে এখন ইরানের রেভুল্যুশনারী গার্ডের প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা ছাড়াও আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরাক থেকে যাওয়া ৯ হাজার শিয়া যোদ্ধা ও সাত হাজার হিজবুল্লাহ যোদ্ধা রয়েছে। ইসরায়েলে বিশ্বাস করে এই মুহুর্তে সিরিয়ায় ‘ইরান ও আইএস ছাড়া’ স্লোগানে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে যুক্তরাষ্ট্র ভালো অবস্থানে আছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস গত বুধবার জানায় সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এই সপ্তাহে দক্ষিণ দামেস্কে আইএসের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। এরপর তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় দেরা প্রদেশের দিকে এগুচ্ছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়ে সরকারি বিমান থেকে দেরার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় লিফলেট বিতরণ করে যোদ্ধাদের নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ‘উত্তেজনাবর্জিত’ এলাকায় সামরিক শক্তির সমাবেশ বাড়ার খবরে গত শুক্রবার উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়াকে সতর্ক করে দিয়ে দেশটি বলেছে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে তারা ‘কঠোর এবং সঠিক পদক্ষেপ’ নেবে।
সিরিয়ার আসাদ সরকারের যুদ্ধ বিস্তৃত করবার বিরুদ্ধেও সতর্কতা দিয়েছে ওয়াশিংটন। পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হেদার ন্যুয়ার্ট বলেছেন, রাশিয়া ও জর্ডানের সঙ্গে মিলে উত্তেজনাবর্জিত এলাকার একজন নিশ্চয়তা প্রদানকারী হিসেবে এর লঙ্ঘন হলে যুক্তরাষ্ট্র আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর এবং সঠিক পদক্ষেপ নেবে।