এবার গাজা দখলের আহ্বান ইসরায়েলি মন্ত্রীর

ফিলিস্তিনের বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে বলপূর্বক তৈরি হয় ইসরায়েল নামক রাষ্ট্র। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে ভিনদেশে শরণার্থীর জীবন কাটাতে বাধ্য হন ফিলিস্তিনিরা। আর ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো প্রতিরোধ আসে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে। এ মাসেই জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনকে কেন্দ্র করে গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞে নিহত হন আট মাসের শিশুসহ অন্তত ৬২ ফিলিস্তিনি। এবার কোনও রাখঢাক ছাড়াই গাজা উপত্যকা দখলের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের বিচারমন্ত্রী আয়েলেত শাকেদ। মঙ্গলবার জানুব এফএম নামের একটি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ আহ্বান জানান।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর এভাবে হামলে পড়ে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ফাইল ছবি।আয়েলেত শাকেদ বলেন, গাজা উপত্যকা দখলে নিতে প্রস্তুত হওয়ার সময় এসেছে। হামাস নেতাদের ধ্বংস করে দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এটা করা দরকার।

তিনি বলেন, গাজার দখল নেওয়া অসম্ভব কিছু নয়। সত্য কখনও গোপন করা উচিত নয়। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের মর্টার হামলা ইসরায়েলকে যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন আয়েলেত শাকেদ।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরায়েল নামের রাষ্ট্র। নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর চলতে থাকে বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।

ইহুদি ধর্মের নামে ‘জায়নবাদ’-এর দর্শনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসরায়েল। জায়নবাদ ইহুদি ধর্মের দর্শন নয়, এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদ; অলীক রূপকথায় যে মতবাদের শরীর গড়ে উঠেছে। জায়নবাদের ভাষ্য, জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিন ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত পবিত্র নগরীতে স্রষ্টা তাদের অধিকার ফিরিয়ে নিতে বলেছিলেন! ইতিহাসে নজর ফেরালে দেখা যায়, ১৮ শতক থেকে জায়নবাদ নামের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ইহুদিরা তাদের বর্ণবাদী ধারণার বিস্তার ঘটিয়ে ফিলিস্তিন ভূমিতে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ব্যাপারে মনোযোগী হয়। জায়নবাদের মাধ্যমে তখন থেকে আজ পর্যন্ত ইহুদি জনগণের মনে ফিলিস্তিনবিরোধী বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। ভারতের জাতিগত মুক্তি আন্দোলনের প্রবাদপ্রতীম ব্যক্তিত্ব মহাত্মা গান্ধীর ভাষায়, 'ব্রিটিশদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা (ইহুদীবাদীরা) এমন একটা জনগোষ্ঠীকে সর্বস্বান্ত করছে যারা (ফিলিস্তিনি) তাদের কোনও ক্ষতি করেনি। ন্যায়-অন্যায়ের সার্বজনীন বিধানের কারণেই তাই আরবদের প্রতিরোধকে নাকচ করে দেওয়া যায় না।' সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।