আফগান সরকারের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে তালেবান: যুক্তরাষ্ট্র

আফগান সরকারের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে তালেবান। একটি যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে আলোচনা করতে তার এ বৈঠকে মিলিত হন। দুই পক্ষের বাইরে বিদেশি সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এ আলোচনা প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ছিল। আফগানিস্তানে মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জন নিকোলসন এ তথ্য জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

গত কয়েক বছরে তালেবানের মোকাবিলায় ব্যাপক শক্তি ক্ষয় করতে হয়েছে আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীকে

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। তবে সে সময় ওই প্রস্তাবে সায় দেয়নি তালেবান। অবশ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আফগান সরকারও ফলপ্রসূ আলোচনার ব্যাপারে আগ্রহী নয়। কারণ, তারা তালেবানকে মূলধারার রাজনীতিতে দেখতে আগ্রহী নয়। এমন বাস্তবতায় অব্যাহত সংঘাতে হতাহত হয়েছেন বহু মানুষ।

একদিকে তালেবানের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আবার অন্যদিকে মার্কিন বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে তালেবান। মার্কিন বাহিনীর দাবি, গত ১০ দিনে তাদের হামলায় ৭০ জনেরও বেশি তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। গত এক বছরে তালেবান যতগুলো ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সেগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক এই মার্কিন অভিযান একটি। ১৭ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এসব আঘাত হানা হয়।

গত ২৪ মে তালেবানের ওপর সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ওই দিন মুসা কালা নামক স্থানে তালেবান নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে নেতৃস্থানীয় তালেবান যোদ্ধারা নিহত হয়। আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন সেনাবাহিনীর তরফ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলার সময়ে মুসা কালার ওই স্থানে তালেবান নেতাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেদিনের প্রথম হামলায় নিহত প্রায় ৫০ জনের মধ্যে রয়েছে তালেবানের পক্ষে নিযুক্ত হেলমান্দ প্রদেশের গভর্নর, একাধিক জেলার গভর্নর, শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং কান্দাহার, কুন্দুজ, গেরাত, ফারাহ, উরুজগাম এবং হেলমান্দ প্রদেশের নেতৃস্থানীয় তালেবান কর্মকর্তারা।

আফগানিস্তানে মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল জন নিকোলসন বলেছেন, ‘গত এক বছরের মধ্যে ওই অভিযান তালেবান যোদ্ধাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি। দীর্ঘদিন ধরে এর সামষ্টিক প্রভাব পুরো দেশজুড়ে দেখতে পাওয়া যাবে।’

নিকোলসন জানিয়েছেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই আফগানিস্তানে বিজয় নিশ্চিত হবে। হামলা ও আলোচনা চলতে থাকবে। আমরা তালেবানকে চাপে রাখব যেন তারা শান্তি আলোচনায় রাজি হয়।’

মার্কিন বাহিনী এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, আফগানিস্তানে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে কোনও সমাধান আসবে না। বরং শান্তি আলোচনায় রাজি হওয়ার জন্য তালেবানকে চাপে রাখতে হবে। এসব হামলা সেই চাপে রাখার কৌশলেরই অংশ। তবে পাল্টা হামলা চালিয়ে মার্কিন কৌশলের জবাব দিচ্ছে তালেবান। বুধবার তারা দেশটির মার্কিন সমর্থিত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হামলা চালায়। বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, এই হামলার মধ্য দিয়ে তালেবান এখনও কাবুলে তাদের ক্ষমতার জানান দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি, আনাদোলু এজেন্সি।