গুয়াতেমালায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে ২৫ জনের মৃত্যু, আরও প্রাণহানির শঙ্কা

গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কয়েকশো মানুষ। একে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ উদগীরণ বলে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। দেশটির রাজধানী গুয়াতেমালা সিটির প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের ওই আগ্নেয়গিরিটি থেকে কালো ধোঁয়া ও ছাই উদগীরণ হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় জরুরি দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছেন গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেস।

গুয়াতেমালায় অগ্ন্যুৎপাতে হতাহতদের উদ্ধার করা হচ্ছে
‘ফুয়েগো’ শব্দের অর্থ ‘আগুন’। গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরিটি থেকে এই বছরেই দ্বিতীয় বার অগ্ন্যুৎপাত হল। সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আগ্নেয়গিরি থেকে গল গল করে বেরিয়ে আসছে জ্বলন্ত লাভা স্রোত। বেরিয়ে আসছে ছাই। লাভার স্রোত গড়িয়ে গিয়েছে অন্তত ৮ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত।

গুয়াতেমালার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (কনরেড) জানিয়েছে, লাভার একটি স্রোত এল রোদেও গ্রামের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে ভিতরে থাকা লোকজনকে দগ্ধ করেছে। আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে গুয়াতেমালা সিটির লা অরোরা বিমানবন্দর বন্ধ করে রাখা হয়েছে। 

কনরেডের পরিচালক সেরগিও গার্সিয়া কাবানেস বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে যেন লাভার নদী। দু’ কূল ছাপিয়ে ছুটছে। আর তার কবলে পড়েছে এল রোদেও গ্রাম। অধিবাসীরা আগুনের হাত থেকে বাঁচার জন্য অসহায় হয়ে ছুটোছুটি করছেন। এরই মধ্যে আগুনে দগ্ধ হয়ে অনেকে মারা গেছেন, বহু মানুষ আহত হয়েছেন।’

কনরেডের প্রধান সেরহিও কাবানিয়াস জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে তার সংস্থার এক কর্মীও রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এল রোদেও গ্রাম যেন লাভাস্রোতে চাপা পড়েছে। আর জ্বলন্ত লাভার জন্য লা লিবেরতাদ গ্রামে আমরা তো পৌঁছোতেই পারিনি। সেখানেও নিশ্চয় বহু লোক মারা গেছে।’

গুয়াতেমালার দমকলবাহিনীর মুখপাত্র মারিও ক্রুজ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩১০০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনগণকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।