উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ তিন সামরিক পদে রদবদল!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের বৈঠককে সামনে রেখে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর শীর্ষ তিনটি পদে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে বলে বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শীর্ষ তিন সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যরা তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, ১২ জুন সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককে সামনে রেখে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করছেন।

উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন

আগামী ১২ জুন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিম। উত্তর কোরীয় নেতা এবং দায়িত্বরত মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে এটাই প্রথম বৈঠক। নানা অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বৈঠকের বিষযটি চূড়ান্ত হলেও এরমধ্যে সেনাবাহিনীর শীর্ষ তিন কর্মকর্তাকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়নহাপ। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই তিন সামরিক কর্মকর্তার পদে অন্যদের নিযুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার (৩ জুন) ইয়নহাপের প্রতিবেদন নিয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, উত্তর কোরিয়ার তিন শীর্ষ পদে অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে বলেই তাদের বিশ্বাস। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিম এখন যে আচরণ করছেন তা নিয়ে সেনাবাহিনীতে বিরোধী মত রয়েছে। সম্ভবত কিম নিশ্চিত করতে চান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকে কোনও চুক্তি হলে তা নিয়ে যেন দেশের ভেতরে বিরোধিতা না দেখা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়ার বরখাস্তকৃত তিন সামরিক কর্মকর্তার পরিচয় উল্লেখ করতে পারেননি। তবে ইয়নহাপ তাদের পরিচয় উল্লেখ করেছে। ইয়নহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা হলেন প্রতিরক্ষা প্রধান পাক ইয়ং সিক, কোরিয়ান পিপল’স আর্মির জেনারেল স্টাফ প্রধান রি মিয়ং সু এবং কোরিয়ান পিপলস আর্মির পলিটিক্যাল ব্যুরোর পরিচালক কিম জং গাক।

অসমর্থিত এক গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে ইয়নহাপ আরও জানায়, পাক ইয়ং সিকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রথম সহকারী মন্ত্রী নো কুয়াং চোল, রি মিয়ং সু’র স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তার সহকারী রি ইয়ং গিল। ইয়নহাপ আরও জানায়, গত মাসে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, কিম সু গিলকে কিম জং গাকের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।

কিম কী কারণে তিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে সরালেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতা এবং অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সংকটপূর্ণ সময়গুলোতে কোরীয় পিপলস আর্মি (কেপিএ)-এর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গবেষণা ও বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিএনএ’র আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক পরিচালক কেন গজ বলেন, ‘কিম জং উন যদি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি স্থাপন করতে চান এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আংশিক চুক্তিতে পৌঁছাতে চান, তবে সেনাবাহিনীর প্রভাবকে বাক্সবন্দি করে তা সেখানেই রেখে দিতে হবে।’