ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ফ্রান্স সফরকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৫ জুন) প্যারিসের রাস্তায় তুমুল বিক্ষোভ হয়েছে। গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলি বাহিনীর অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এদিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে সমর্থন প্রত্যাহারে রাজি করাতে তিন ইউরোপীয় দেশ সফর করছেন নেতানিয়াহু। সোমবার (৪ জুন) জার্মানি সফর করেন তিনি। তবে পরমাণু চুক্তি থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের জন্য জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেলকে রাজি করাতে পারেননি নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (৫ জুন) ছিল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ফ্রান্স সফর। তার সফরকে কেন্দ্র প্যারিসের রাস্তায় তুমুল বিক্ষোভ হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অ্যান্টোইন বলেন, ‘আমরা নেতানিয়াহুকে হ্যালো বলতে এখানে এসেছি। গত মাসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় অনেক নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা তাকে ও বিশ্বকে মনে করিয়ে দিতে চাই।’
২০ বছর বয়সী মেডিক্যাল শিক্ষার্থী ইয়াসমিন বলেন, ‘চিকিৎসাকর্মী রাজন আল নাজ্জারকে অমানবিকভাবে হত্যার ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন বোধ করছি। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী।’
মঙ্গলবার (৫ জুন) অনেক বিক্ষোভকারীকে ২১ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মী নাজ্জারের ছবি হাতে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। তারা স্লোগান দিচ্ছিলেন, ‘ইসরায়েল খুনী, ম্যাক্রোঁ দোসর।’
বিক্ষোভের আয়োজকদের একজন জ্যাকস। ৬৫ বছর বয়সী এ বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আজ ম্যাক্রোঁ ও নেতানিয়াহু ফ্রান্স-ইসরায়েল সিজন উদ্বোধন করছেন, যা একটি কলঙ্ক, কারণ ইসরায়েল ফ্রান্সের মূলবোধ ক্ষুণ্ন করেছে।’
শুরুতে গ্র্যান্ড প্যালাইস এক্সিবিশন হলের সামনে বিক্ষোভ হওয়ার কথা ছিল। সেখানে ম্যাক্রোঁ ও নেতানিয়াহুর একত্রিত হওয়াকে সামনে রেখে এ বিক্ষোভ আয়োজন করতে চেয়েছিল তারা। তবে পুলিশ আয়োজকদের বাধা দেয়। র্যালির জন্য নির্ধারিত সময়ে নিকটবর্তী দুটি মেট্রো স্টেশন ও ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। উপায় না দেখে সিন নদীর বিপরীত পাড়ে জড়ো হয়ে চলে বিক্ষোভ।
পুলিশের সঙ্গে ছোটখাটো কয়েকটি বিবাদের ঘটনা বাদ দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শানিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। অন্তত একজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আগেরদিন সোমবার ফ্রান্সের শীর্ষ তিন সাংবাদিক সংগঠনও নেতানিয়াহুর সফরের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছে। এ মুহূর্তে নেতানিয়াহুকে ম্যাক্রোঁর স্বাগত জানানোটা ‘দুঃসহ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ৬ জাতিগোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভিয়েনায় নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ) যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য,ফ্রান্স,রাশিয়া,চীন ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।চুক্তি অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত ৮ মে তা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিলেও নিজেদের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা নিশ্চিত করেছে তিন ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স,জার্মানি ও যুক্তরাজ্য। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বাকি দুই দেশ রাশিয়া এবং চীনও রয়েছে একই অবস্থানে।
ওবামা প্রশাসনের সময় ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে তেহরানের সম্পাদিত পরমাণু চুক্তিকে শুরু থেকেই নেতিবাচক অবস্থান থেকে দেখছে ইসরায়েল। এ নিয়ে ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দৃশ্যত এ চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি করেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট।