দেশব্যাপী নিরস্ত্রীকরণের ডাক দিলেন ইরাকের শিয়া নেতা

নিজের এলাকায় বোমা বিস্ফোরণে হতাহতের দুইদিনের মাথায় দেশব্যাপী নিরস্ত্রীকরণের ডাক দিয়েছেন ইরাকের শিয়া মতালম্বী ধর্মীয় নেতা মুক্তাদা আল সদর। নিজের শক্ত অবস্থান থাকা সদর সিটি প্রথম নিরস্ত্রীকরণ এলাকা হবে বলে শুক্রবার ঘোষণা করেছেন তিনি। বুধবারের বিস্ফোরণের পর সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সদর নিজের কার্যালয়কে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। সদরের এসব পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ইরাক সরকার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে চলা উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে সদর এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।ইরাকের শিয়া নেতা মুক্তাদা আল সদর
গত ১২ মে ইরাকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুর্নীতি বিরোধী লড়াই ও নাগরিক সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয় সদরের নেতৃত্বাধীন জোট। ওই নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে চলে যায় প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদীর জোট। বুধবার (৬ মে) তার নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনের ভোট পুনঃগণনার লক্ষ্যে একটি আইন পাস করে। এর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই বাগদাদের উপকণ্ঠে সদর সিটির একটি আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর সমর্থকদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি দেশব্যাপী নিরস্ত্রীকরণের ডাক দেন সদর।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে মুক্তাদা আল সদর দেশের সব সশস্ত্র গ্রুপকে সরকারের কাছে অস্ত্র সমর্পনের আহ্বান জানান। ঘোষণা দেন এই মাসের শেষ নাগাদ সদর সিটি নিরস্ত্রীকরণ এলাকা হয়ে যাবে। সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বিবৃতিতে সদর বলেন, ‘প্রত্যেককে এই নির্দেশ মানতে হবে আর এই উদ্যোগের পথে বাধা কেউ বাধা হতে পারবে না। প্রত্যেকেই কোনও আলোচনা ছাড়াই নিজেদের অস্ত্র জমা দেবে। কারণ অন্য যেকোনও কিছু থেকে ইরাকিদের রক্ত মূল্যবান।’

বুধবার পাস হওয়া ভোট পুনঃগণনার আইনকে প্রত্যাখান করেছে সদরের জোট। আইন পাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সদর সিটির আবাসিক এলাকায় গোপনে জড়ো করে রাখা বিস্ফোরকের গুদামে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ১৮ জন নিহত ও ৯০ জনের বেশি হতাহত হওয়ার ঘটনার শুরু করতে তদন্তে নিজের কার্যালয়কে নির্দেশ দেন তিনি।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদী বলেছেন, আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরক জমা করে রাখা একটি অপরাধ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি যারা এই কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সদরের কয়েকজন রাজনৈতিক বিরোধী দাবি করছেন বিস্ফোরিত অস্ত্রশস্ত্র সদরের সারাইয়া আল সালাম (শান্তি কোম্পানি) যোদ্ধাদের। শুক্রবার ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে দেওয়া এক বিবৃতিতে সদরের ঘোষণার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়।বুধবার সদর সিটিতে বিস্ফোরণে ১৮ জন নিহত হয়

ইরাকি জাতীয়তাবাদী মুক্তাদা আল সদর নিজের দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রভাব খাটানোর বিরোধী। দুর্নীতি বিরোধী লড়াই আর নাগরিক সেবার উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১২ মে’র নির্বাচনে জয়ী হয় সদরের নেতৃত্বাধীন জোট। তবে কম ভোটার উপস্থিতির ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট পুনরায় হাতে গণনার জন্য আইন সংশোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদী।  

বুধবার এই আইন পাসের আগে হাজার হাজার সমর্থক নিয়ে সরকারের এই নীতির বিরোধিতা করেছেন সদর। তার এক শীর্ষ সহযোগী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন কয়েকটি দল সদরের বিজয়কে নস্যাৎ করতে চাইছে।

শিয়া মতালম্বী ধর্মীয় নেতা মুক্তাদা আল সদর ইরাকের অস্থির রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। পূর্বে ‘মেহেদি আর্মি’ নামে পরিচিত তার অনুসারী সশস্ত্র যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আগ্রাসনের পর দুইবার সহিংস গণজাগরণ ঘটিয়েছে। ওই সময়ে ইরাক আর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা তাকে ইরাকের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি বলে বর্ণনা করে।

শুক্রবারের বিবৃতিতে সদর বলেছেন সব সশস্ত্র গ্রুপের বিরুদ্ধে নিরস্ত্রীকরণ অভিযান পরিচালিত হওয়া উচিত। তিনি সতকর্ করে দিয়ে বলেন, কেবলমাত্র তার অনুসারীরাই যেন এর লক্ষ্যবস্তু না হয়। তিনি বলেন, এই উদ্যোগকে ব্যবহার করে যেন কেবলমাত্র সদরিস্ট ব্লককে লক্ষ্যবস্তু বানানো না হয়। তা করা হলে এর নেতিবাচক পরিণতি হবে।

তিনি বলেন, ‘এই অভিযান আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ওপরও প্রয়োগ করা উচিত যারা অনুমতি অথবা ক্ষমা ছাড়াই অস্ত্র ব্যবহার করে।’ মিডলইস্ট আই বলছে, আইএস বিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইরান সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটকে (পিএমইউ) উদ্দেশ্য করেই এই মন্তব্য করেছেন সদর।