হুদাইদায় হামলা বিপর্যয় ডেকে আনবে: জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি

ইয়েমেনের হুদাইদায় সৌদি সমর্থিত সরকারপন্থী বাহিনীর সামরিক অভিযান বা অবরোধ অঞ্চলটিতে বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য বিষয়ক সমন্বয়ক লিস গ্র্যান্ডে বলেছেন, লাখো নিরপরাধ মানুষের ওপর এর বিপর্যয়কর প্রভাব পড়বে।

nonameলিস গ্র্যান্ডে বলেন, মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আড়াই লাখ মানুষ তাদের সর্বস্ব হারাবেন। এমনিক নিজের জীবনও।

বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকাটিতে ছয় লাখ সাধারণ মানুষের বসবাস। এখান থেকে ইয়েমেনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের কাছে খাবার ও ওষুধ সামগ্রী পৌঁছায়। দেশটির আমদানির ৭০ শতাংশ আসে এ এলাকা হয়ে। ফলে সেখানে হামলা চালানো হলে এর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়কর প্রভাব পড়বে।

জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য বিষয়ক সমন্বয়ক লিস গ্র্যান্ডে বলেন, হুদাইদা হয়ে আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে ইয়েমেনের মানুষ ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পতিত হবেন।

সৌদি সমর্থিত ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টকে ফিরিয়ে আনতে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি জোট। তাদের উপর্যুপরি বিমান হামলায় বিপর্যয় নেমে আসে সাধারণ মানুষের জীবনে। গত মে মাসে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা মোকাবিলায় খাদ্যপণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুততর করার তাগিদ দেয় জাতিসংঘ। সংস্থাটির জরুরি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের সমন্বয়কারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বন্দর দিয়ে আমদানি করা জ্বালানি ও খাদ্য দ্রুত ইয়েমেনে ঢুকতে দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিন বছর ধরে ইয়েমেনে যুদ্ধ চলছে। দেশটির নিয়ন্ত্রণ কার্যত চলে গিয়েছিল ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হাতে। ইয়েমেনকে উদ্ধার করার কথা বলে সৌদি আরব যুদ্ধ জোট গঠন করে এবং ইয়েমেনে শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালায়। ইয়েমেন সরকার তাদেরকে স্বাগত জানালেও সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডিল ইস্ট মনিটর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছিল। ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আল মিসরি অভিযোগ করে বলেছিলেন, সৌদি জোটের সদস্য আরব আমিরাতের অনুমতি ছাড়া ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা বন্দর নগরী এডেনে না প্রবেশ করতে পারছেন আর না সেখান থেকে বের হতে পারছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার ক্ষমতা চরমভাবে খর্বিত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে ইয়েমেনের দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার বাকি। উল্লেখ্য, আরব আমিরাত সৌদি নেতৃত্বাধীন যুদ্ধ জোটের সদস্য এবং সৌদি বাহিনীর সঙ্গে শুধু তারাই মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দফতরের প্রধান মার্ক লোকক বলেন, ‘লোহিত সাগর এলাকার বন্দর দিয়ে আমদানি করা খাদ্য পণ্য ইয়েমেনে ঢুকতে দেরি হওয়া দেখে আমি বিশেষভাবে চিন্তিত। সৌদি জোটের সহায়তায় বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক খাদ্য, তেল ও মানবিক সহায়তা সরবরাহে গতি আনতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

রয়টার্স লিখেছে, গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের বন্দর দিয়ে আমদানি পণ্য ঢুকতে দিচ্ছে না। তাদের বক্তব্য, হুথিদের অস্ত্র আমদানি ঠেকাতে তারা ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপে বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও এখনও পণ্য খালাস স্বাভাবিক গতি পায়নি। এদিকে আমদানি করা খাদ্য পণ্য ইয়েমেনে ঢুকতে দেরি হওয়ায় দেশটির খাদ্য পরিস্থিতি ক্রমেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। দেশটি তার ৯০ শতাংশ খাবার বাইরে থেকে আমদানি করে থাকে।ইয়েমেনে সহায়তা পাঠানোতে গতি আনার লক্ষ্যে গত মাসে জাতিসংঘ নিজেই জাহাজ পরিদর্শনের কাজ শুরু করে। তারপরও সৌদি জোট  নিজস্ব কর্তৃত্বে জাহাজ পরিদর্শন করতে থাকায় পণ্য খালাস প্রক্রিয়া ধীর গতির হয়ে পড়েছে। এতে বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনাকারীরাও অসন্তুষ্ট।

অপরদিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও সীমিত করে দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। লোকক বলেছেন, পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা ও তায়েজ শহরে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত তিন বছরের ইয়েমেন যুদ্ধে নিহত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরও প্রায় ৩০ লাখ। বড় ধরনের কলেরা মহামারির আশঙ্কাতেও রয়েছে দেশটি। এর সঙ্গে রয়েছে সৌদি জোটের সদস্য আমিরাত কর্তৃক ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বে আঘাত। সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স।