আরব দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার নীতিতে এগোচ্ছে ইসরায়েল। ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, শুধু ইরানের হুমকির কারণে বেশিরভাগ আরব দেশ প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সংস্পর্শে আসছে না। অথচ তারা ইসরায়েলি প্রযুক্তি থেকেও লাভবান হতে চায়। আরব জাহানে মাত্র এক শতাংশ ফিলিস্তিনি রয়েছে দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, ৯৯ শতাংশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হলে চূড়ান্তভাবে এক শতাংশের সঙ্গেও শান্তি স্থাপিত হবে।
লন্ডন সফরের সময় গত বৃহস্পতিবার বিবিসি টেলিভিশনের নিউজনাইট অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ওই অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, তার বিশ্বাস আরব দেশগুলোর সঙ্গে আরও নিবীড়ভাবে কাজ করা হবে ‘শান্তির পথে অগ্রযাত্রা’। তবে আরব দেশগুলোর সঙ্গে কখনওই সম্পর্ক ভালো ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি কখনওই বিশ্বাস করতে পারিনি যে, আমার জীবদ্দশায় আরব রাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে এ ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।’
তিনি বলেন, সবচেয়ে আশাপ্রদ বিষয় হচ্ছে, কয়েকটি আরব দেশের জনমতকে এটা প্রভাবিত করা শুরু করেছে। তারা ইসরায়েলকে নিয়ে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে শুরু করেছে। এর জন্য ইসরায়েল দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জেনেশুনে আরব দেশগুলোর সঙ্গে এই সহযোগিতার নীতি অনুসরণ করছি শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থের কারণে নয় বরং আমার বিশ্বাস এটা শান্তির পথ।’
এ বছরের মার্চে মিডলইস্ট আই এক বিশেষ রিপোর্টে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সম্পর্ক গভীর হওয়ার খবর দেয়। ওই খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’তে সমর্থন জানিয়েছে রিয়াদ। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা ট্রাম্পের ওই প্রস্তাবনার অংশ বলে মনে করা হয়।
মার্চে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা মিডলইস্ট আইকে বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের সমর্থন না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আরব মিত্ররা এ চুক্তি কার্যকর করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এ চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ফিলিস্তিনিদের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেম ছেড়ে দিয়ে ১৯৪৮ এবং ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলের দখল করা ভূমিতে ফিলিস্তিনিদের ফেরার অধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হবে।
গত নভেম্বরে মিডলইস্ট আই জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দ্রুত গতিতে অগ্রসর হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জর্ডানের বাদশাহ।
বৃহস্পতিবারের নিউজনাইটে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা অভ্যন্তরীণ স্বাভাবিকীকরণ সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, আরব দেশগুলোর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক হয়ে গেলে মিসর ও জর্ডানের মতো পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির প্রয়োজন না পড়লেও চূড়ান্তভাবে তা আরব বিশ্বের এক শতাংশ ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রভাব ফেলবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি বলবো ৯৯ শতাংশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক হলে এক শতাংশের সঙ্গেও শান্তি স্থাপন সম্ভব, যদিও আমি মনে করি একটার পরই আরেকটা হয়ে যাবে।’
নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের কাছ থেকে একই ধরনের হুমকি পেতে থাকায় ইসরায়েল আর আরব রাষ্ট্রগুলো আরও কাছাকাছি আসছে। এছাড়াও আরব দেশগুলো ইসরায়েলি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন থেকে লাভবান হতে চায়।
তিনি বলেন, আরব ও ইসরায়েলিদের মধ্যে আজ যে সম্পর্ক চলছে তাতে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বেশিরভার আরব দেশগুলোর সরকার ইরানের হুমকির কারণে এখন ইসরায়েলের কাছে আসছে। কারণ তারা বুঝতে পারছে আমরা এমন কিছু করতে পারবো যা ইরানের টিকে থাকাকে হুমকির মুখে ফেলে দেবে। দ্বিতীয়ত, তারা বেসামরিক প্রযুক্তির সুবিধা বুঝতে শুরু করেছে।
নেতানিয়াহু বলেন, তারা একটি উন্নততর জীবন চায়। আর তারা জানে যে, এসব উদ্ভাবনের উৎসমূল হচ্ছে ইসরায়েল। যা পরিবর্তন আনতে পারবে আর তাদের জীবনকে উন্নত করতে পারবে।