ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘের জরুরি বৈঠক আহ্বান তুরস্ক-আলজেরিয়ার

ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে তুরস্ক ও আলজেরিয়া। ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় একটি খসড়া প্রস্তাবের নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটির জন্য এ বৈঠক আহ্বান করেছে দেশ দুইটি।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে তুরস্ক এবং আরব ইউনিয়নের পক্ষে আলজেরিয়া শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ বৈঠক আহ্বান করেছে।

এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, সেনেগাল, মিসর ও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মিরোস্লাভ লাজসাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের প্রতিনিধি ফেরিদান সিনিরলিওগ্লু।

সম্ভাব্য এই বৈঠকের দিনক্ষণ এখনও জানা যায়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আগামী সপ্তাহে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এদিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবারও (৮ জুন, ২০১৮) চার ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েলি সেনারা। এদিন ইসরায়েলি সীমান্ত বেষ্টনীর কাছে বিক্ষোভ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন আরও ছয় শতাধিক ফিলিস্তিনি।

ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরায়েল নামের রাষ্ট্র। এরপর থেকে ক্রমাগত চলছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, হত্যাযজ্ঞ।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, সীমান্ত বেষ্টনীর কাছে বিক্ষোভের সময় তিনজনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজা উপত্যাকার খান ইউনিসে হাইথাম আল-জামাল নামে এক ১৫ বছরের কিশোরকে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। খবরে আরও বলা হয়, দক্ষিণ গাজায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জিয়াদ জাদাল্লাহ বুরেইম নামে আরেকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া গাজার জাবালিয়া শহরের পূর্বদিকে বিক্ষোভের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ইমাদ নাবিল আবু দারাবি নামে আরেক যুবক নিহত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, আহত ৬ শতাধিক মানুষের মধ্যে ৯২ জন মারণাস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৬ শিশু ও ১৪ নারী রয়েছে। মারণাস্ত্রের আঘাতে আহতদের বেশিরভাগেরই অবস্থা গুরুতর। বাকিরা আহত হয়েছেন টিয়ার সেলে। 

গাজা উপত্যকা থেকে আল জাজিরা প্রতিবেদক ইমরান খান বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। তিনি বলেন, তারা দুইভাবে এটা ব্যবহার করছে। প্রথমত তারা গাড়ি থেকে নেমে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের আশ্রয় নেয়। ড্রোন ব্যবহার করে টিয়ারগ্যাস ছড়িয়ে দেওয়ার পর মারণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করে তারা।

বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনি ইমরান জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিরাও এসব ড্রোন মোকাবিলার উপায় বের করে ফেলেছে। তারা ঘুড়ির ফাঁদে ড্রোনগুলোকে জড়িয়ে আটকে ফেলতে পারছে। ইতোমধ্যে তারা একটি ড্রোনকে নিচেও নামিয়ে ফেলেছে।