ভেঙে গেল পিডিপি-বিজেপি জোট, কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ

তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকা মতভেদে প্রায় সাড়ে তিন বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করলো বিজেপি। মঙ্গলবার (১৯ জুন) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জম্মু-কাশ্মিরে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-পিডিপি ও ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যকার জোট ভেঙে যাওয়ার খবর দিয়েছে। বিজেপি জোট সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করার ধারাবাহিকতায় মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়েছেন পিডিবি নেতা মেহবুবা মুফতি। কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স-এর পক্ষ থেকে মেহবুবার দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবিধান মোতাবেক, এখন ওই রাজ্যে গভর্নরের শাসন জারি হবে।
মেহবুবা মুফতি

 

জম্মু-কাশ্মির বিধানসভায় মোট ৮৭টি আসন। ২০১৪-এর মে মাসে উপত্যকায় যে নির্বাচন হয়, সেখানে পিডিপি পেয়েছিল ২৮টি আসন। বিজেপি পেয়েছিল ২৫টি। এছাড়া ওমর আবদুল্লার দল ন্যাশনাল কনফারেন্স ১৫টি, কংগ্রেস ১২টি এবং অন্যরা ৭টি আসন পেয়েছিল। বিজেপি এবং পিডিপি যৌথভাবে প্রয়োজনীয় ৪৪ আসন ছাড়িয়ে ৫৩টি আসনের জোট গঠন করে। সেই জোটই এতদিন সরকার চালাচ্ছিল উপত্যকায়। তবে বেশ কিছু মতাদর্শিক বিরোধের কারণে জোটগত ভাঙন সৃষ্টি হয়, যার ফলাফল এই সরকার ভেঙে যাওয়া।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস লিখেছে, দিল্লিতে বিজেপির অমিত শাহের সঙ্গে প্রদেশের ১১ জন সংসদ সদস্যের বৈঠকের পর তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মেহবুবার দলের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজেপি নেতা রাম মাধাব দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘জম্মু ও কাশ্মিরের জোটের শরিক হয়ে থাকাটা বিজেপির জন্য অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছিল। সেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা সামলানোর জন্য গভর্নরের হাতে ক্ষমতা যাওয়া দরকার।’ সংবাদ সম্মেলনে রাম মাধব বলেন, জম্মু ও কাশ্মির ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এটা মাথায় রেখে ও রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের অভিমত, ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ রাজ্যপালের হাতে তুলে দেওয়াই শ্রেয়।
রাম মাধবের সংবাদ সম্মেলনের পর রাজভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। হিন্দুস্থান টাইমস বলছে, মঙ্গলবার মেহবুবার ওই পদত্যাগের কারণে কাশ্মিরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠল।