ইরানকে মোকাবিলায় সৌদি-কাতার দ্বন্দ্বের অবসান চান ট্রাম্প

ইরানকে মোকাবিলায় কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের দ্বন্দ্বের অবসান চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেননা তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে এমন দ্বন্দ্ব শুধু ইরানকেই লাভবান করছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের এমন মনোভাবের কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান আল থানি’র সঙ্গে বৈঠকের পর এ সংবাদ সম্মেলনে মিলিত হন মাইক পম্পেও।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হেদার নুয়ার্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক বজায় রাখায় কাতার ধন্যবাদ পাওয়ার দাবিদার।

সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগ তুলে ২০১৭ সালের জুনে কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর। তবে সৌদি জোটের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে আসছে  কাতার। দোহার দাবি এই অবরোধের লক্ষ্য হলো দোহার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করা।

সৌদি জোটের ওই অবরোধ আরোপের এক বছরের মাথায় সম্প্রতি এ ইস্যুতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয় কাতার। চার দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলেও আমিরাতের বিরুদ্ধে এই অবরোধে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে দোহা। এসব দেশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে কাতার।

দোহা বলছে, আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে কাতারের আবেদনে চার দেশের বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও মূলত আমিরাত এই কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়েছে। যার কারণে কাতারি জনগণ ও এখানকার বাসিন্দাদের মানবাধিকারের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। আমিরাতের নেওয়া একের পর এক পদক্ষেপের কারণে কাতারি জনগণের ওপর বৈষম্য বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে আমিরাত থেকে তাদের বহিষ্কার, কাতারের অভ্যন্তরে প্রবেশ ও তাদের অভ্যন্তর দিয়ে যাতায়াতে বাধা দেওয়া, আমিরাতের নাগরিকদের কাতার ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া ও কাতার সংলগ্ন আমিরাতের বিমান ও সমুদ্র বন্দর বন্ধ করে দেওয়া। এসব পদক্ষেপ সব ধরণের বর্ণবাদী বৈষম্য বিলোপের আন্তর্জাতিক কনভেনশনের লঙ্ঘন। কেননা, ওই কনভেনশন অনুযায়ী জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ। এই কনভেনশনে কাতার এবং আমিরাত দুই দেশই স্বাক্ষর করেছে। তবে সৌদি আরব, বাহরাইন ও মিসর এতে স্বাক্ষর করেনি।

অবরোধের এক বছরের মাথায় কাতারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণার মধ্যেই নতুন করে এ ইস্যুতে বিবাদ মেটানোর আহ্বান জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।