সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আরও কয়েকটি শহরের দখল নিয়েছে সরকারি বাহিনী। শনিবার এসব শহর দখল করার পরও বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় বিমান হামলা জোরদার করা হয়েছে। সেখানকার বিদ্রোহীরা বলেছে, তারা সরকারের মিত্র রাশিয়ার মাধ্যমে শান্তি আলোচনা শুরু করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
নতুন করে দখল করা দেরা শহরের উত্তরাঞ্চলের দায়েল এলাকা থেকে অনুষ্ঠানও সম্প্রচার করেছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থা বলেছে, পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি শহরও সরকারের শাসন মেনে নিয়েছে।
বিদ্রোহীদের একজন মুখপাত্র বলেন, শনিবার রুশ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকের বসা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো দেরা প্রদেশের ওপর সিরীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়েই এই আলোচনা করা হবে।
পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়াল অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, এই সমঝোতার মধ্যেও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। হামলা শুরুর পর প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার মানুষকে তাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এর ফলে সেখানে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়া বিদ্রোহীদের বাকি থাকা মাত্র দুটি শক্তিশালী ঘাঁটির একটি। উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার সংযুক্ত অঞ্চলটি পুনরায় দখল করেছে আসাদ সরকার। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণও ফিরে পেতে চান।
পূর্ব ঘৌটাসহ দামেস্কের আশেপাশের বিদ্রোহী উপত্যকাগুলো দখলের পর দেশটির সেনা বাহিনী এই অঞ্চলের বিদ্রোহী এলাকায় অভিযান শুরু করেছে। তবে অঞ্চলটি ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী হওয়ায় অভিযানের ফলে সেখানে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে আসাদের পক্ষে লড়াই করা ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তারা ওই বাহিনীকে ইসরায়েল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সিরীয় বাহিনী জর্ডান সীমান্তের দেরা প্রদেশে অভিযান চালানোর দিকেই বেশি মনযোগ দিয়েছে। তবে ইসরায়েলের দখলকৃত গোলান মালভূমির পাশে থাকা কুনেইত্রা প্রদেশের দিকে খুব একটা নজর দিচ্ছে না। বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতেও কুনেইত্রা প্রদেশের কথা বলা হয়নি।
গত বছর রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান সিরিয়ার পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে অসামরিকীকৃত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে রাজি হয়। এই চুক্তি ভঙ্গ করলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হলেও তারা তেমন কিছু করবে বলে মনে হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের এমন নীরবতায় বিদ্রোহীদের শীর্ষ সমঝোতাকারী বৃহস্পতিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।