তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখবে সৌদি আরব: যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের কমে যাওয়া তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখবে সৌদি আরব সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জ্বালানী রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক তেলের বাজার অস্থিতিশীল করছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (৩০ জুন) এট টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আরও বেশি তেল উৎপাদনে সম্মত হয়েছেন। পরে হোয়াইট হাউসও জানায় প্রয়োজন পড়লে বেশি তেল উৎপাদনের কথা জানিয়েছেন সৌদি বাদশাহ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্প। ফাইল ছবি

অন্যতম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর গত সপ্তাহ থেকে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। ওপেক উৎপাদনবৃদ্ধির ঘোষণা দিলেও বাজারে অস্থিতিশীলতা থামছে না। রবিবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সৌদি আরবকে তেল সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানানোর কথা বলেন। বলেন,  তেহরান বিরোধী পদক্ষেপে ওয়াশিংটন রিয়াদের পাশে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম কমাতে এই পদক্ষেপে সম্মত হয়েছে সৌদি বাদশাহ।

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার একটি নেতিবাচক দিক ভুলে গেলে চলবে না যে প্রচুর তেল হারাতে হবে। আর তারা (সৌদি আরব) এটা পূরণ করবে। তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু কে? চিন্তা করে দেখুন এটা ইরান। ইরান যদি তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয় হলে তারা এটা করবে।

ট্রাম্প বলেন, আমার সঙ্গে সৌদি বাদশাহ এবং যুবরাজের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে, আর অন্য তেল সরবরাহকারীদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আর তারা আরও তেল সরববরাহ বাড়াতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখারও ঘোষণা দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রফতানিকারক দেশ ইরান সরবরাহ কমার আশঙ্কায় বাড়তে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজার। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেলের দামা বাড়ায় ট্রাম্প সরাসরি ওপেককে দায়ী করেন। সংস্থাটির সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব।

তেলের বাজার কেউ অস্থিতিশীল করছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, একশ ভাগ। আর সেটা ওপেক। তারা এটা থামাতে পারে কারণ আমরা এসব অনেক দেশকেই রক্ষা করছি। ট্রাম্প বলেন, ওপেক অস্থিতিশীল করছে, আর তারা গত সপ্তাহে আমাদের ধারণা অনুযায়ী সরবরাহ বৃদ্ধিতে সম্মতি দিচ্ছে না। আমার মতে তাদের বাড়তি ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করা উচিত।