১৩ জুলাই দেশে ফিরছেন নওয়াজ শরিফ

আগামী ১৩ জুলাই দেশে ফিরছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। দুর্নীতির দায়ে আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় দেশে ফিরেই কারাগারে যেতে হবে তাকে। তবে তার পরিবার ও দলের প্রত্যাশা, এ বন্দিত্বের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের সহমর্মিতা পাবেন নওয়াজ। 

নওয়াজ শরিফ

কন্যা মরিয়ম নওয়াজ শরিফকে সঙ্গে নিয়ে ফিরবেন তিনি। লন্ডনে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান মারিয়াম। তিনি বলেন, আমরা ১৩ জুলাই শুক্রবার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সাংবাদিকরা নওয়াজকন্যাকে ১০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের বাধ্যবাধকতার কথা মনে করিয়ে দেন। এ সময় মরিয়ম বলেন, ‘যে কোনওভাবে ১০ দিনের আগেই আমরা দেশে ফিরবো।’

এদিকে নওয়াজের পর তার কন্যার বিরুদ্ধেও পাকিস্তানের আদালত দণ্ডাদেশ দেওয়ায় মরিয়ম নওয়াজ শরিফও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না। তার আসন থেকে ইতোমধ্যেই বিকল্প প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে নওয়াজের দল মুসলিম লীগ।

এর আগে দুর্নীতি মামলায় শুক্রবার নওয়াজ শরিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন দেশটির একটি আদালত। নওয়াজের সঙ্গে তার মেয়ে মরিয়মকেও সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জামাতা ক্যাপ্টেন অবসরপ্রাপ্ত সফদারকে এক বছরের কারদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নওয়াজকে ৮০ লাখ এবং মরিয়মকে ২০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরে শুনানির পর গত শুক্রবার পাকিস্তানের দায়বদ্ধতা আদালত-১ এর বিচারক মোহাম্মদ বশির এই রায় দেন। এদিন তিনবার সময় পাল্টানোর পর স্থানীয় সময় সাড়ে তিনটায় রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় বিচারক দুই পক্ষের আইনজীবীকে চেম্বারে ডাকেন। সেখানে কোনও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

রায় ঘোষণার বিলম্বের কারণ সম্পর্কে বিচারক জানান, রায়ের কপি বিতরণে ফটোকপি করা প্রয়োজন ছিল। এজন্যই দেরি হয়েছে।

দেরিতে রায় ঘোষণার জন্য গত বৃহস্পতিবার আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন নওয়াজের আইনজীবী। আগামী সপ্তাহে লন্ডন থেকে নওয়াজ দেশ ফিরবেন এই যুক্তিতে ওই আবেদন করা হলে বিচারক বশির তা খারিজ করে দেন।

স্ত্রী বেগম কুলসুম নওয়াজের চিকিৎসার জন্য গত ১৪ জুন সপরিবারে লন্ডন যান নওয়াজ শরিফ। অ্যাভেনফিল্ড এলাকার বাসায় বসে মেয়ে মরিয়ম আর সাবেক অর্থমন্ত্রী ইসহাক ধরের সঙ্গে বসে মামলার রায় ঘোষণা শোনেন তিনি। আর তার শ্যালক অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সফদার আসন্ন ২৫ জুলাই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণায় খাইবার পাখতুন প্রদেশের মানেসরা এলাকায় ছিলেন। সেখান থেকেই রায় শুনেছেন তিনি। রায় শোনার পর স্ত্রীকে নিয়ে হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে রওনা দেন নওয়াজ।

রায় ঘোষণার আগে মেয়ে মরিয়ম এক টুইটার বার্তায় নওয়াজকে পিএমএল-এন এর সিংহ অভিহিত করে বলেন, রায় যাই হোক না কেন কোনও কিছুতেই ছাড় দেওয়া হবে না। পরে আরেক টুইটে তিনি লেখেন, ‘এসব কোনও কিছুই নওয়াজ শরিফের জন্য নতুন নয়, অতীতে নির্বাসন, অযোগ্যতা এমনকি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ সামলেছেন তিনি।’

নির্বাচনি প্রচারণায় নওয়াজের জামাতা সফদার বলেছেন, রায় ঘোষণাকে ভয় পান না তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণার পর পদত্যাগ করেন নওয়াজ। তার দল মুসলিম লীগ এখনও পাকিস্তানের ক্ষমতায় রয়েছে। সূত্র: গালফ টাইমস, ডন।