লোহিত সাগরে বিপর্যস্ত সৌদি আরবের জাহাজ চলাচল পথ

বুধবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সৌদি আরব বৃহস্পতিবার বাব এল মান্দেব দিয়ে তেল রফতানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দুইটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের ওপর হামলা করেছিল।cbdc183216974fe7b2d3e9914b6f4883_18

সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রী খালিদ আল ফালিহ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে বাব এল মান্দেব ব্যবহার আপাতত ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত কার্যকে হচ্ছে। তার ভাষ্য, ‘পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এবং বাব এল মান্দেব নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত’ এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। সৌদি আরব দাবি করেছে, হুথিদের হামলায় ট্যাংকার দুটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে।

জাহাজের নাম উল্লেখ না করে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সৌদি যুদ্ধ জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলাটি এসেছে হুদাইদিয়া বন্দর থেকে। তবে জোটের নৌবহরের বাধার মুখে হুথিরা সুবিধা করতে পারেনি।

অপরদিকে সৌদি আরামকো জানিয়েছে, ‘দুটি অতি বৃহৎ তেলবাহী ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে, যাদের প্রত্যেকটি ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করতে পারে।’ তবে হামলায় কোনও তেল সাগরে পড়েনি বা কেউ আহত হয়নি।

বুধবার হুথি পরিচালিত আল মাসিয়াহ টিভিতে দাবি করা হয়েছে, বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল থেকে দামমাম নামের একটি যুদ্ধজাহাজের ওপর হামলা চালিয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বব কাভনার মন্তব্য করেছেন,, ইতোমধ্যেই তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে শেয়ার বাজারে। সৌদি আরব থেকে তেল রফতানি যত বিলম্বিত হবে তত বেশি প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে। কাভনারের ভাষ্য, ‘এমন কি দিনে বিশ বা ত্রিশ মিলিয়ন ব্যারেলেরও যদি ঘাটতি দেখা দেয় তাহলেও তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।’

আরেক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, এলেন আর ওয়াল্ড  ফোর্বসে প্রকাশিত নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘লোহিত সাগর খুবই গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলকারী রুট। যদি সেখানে বড় কোনও সমস্যা দেখা দেয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ইউরোপীয় শক্তিগুলো, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর হস্তক্ষেপে বাধ্য হবে।’