তুরস্কের ওপর অবরোধ আরোপের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

তুরস্কে আটক এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া না হলে দেশটির ওপর অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স অবরোধের হুমকি দিয়ে অ্যান্ড্রু ক্রেইগ ব্রানসন নামের ওই নাগরিককে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে এই হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে তুরস্ক। এর আগে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে ব্রানসনের মুক্তির জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক। ওই চুক্তি অনুযায়ী গত সপ্তাহে তার মুক্তির আশা করেছিল ওয়াশিংটন।noname

২০১৬ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পর সন্ত্রাসবাদ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তুরস্কে আটক হন ৫০ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক অ্যান্ড্রু ক্রেইগ ব্রানসন। ২৩ বছর ধরে তুরস্কে বসবাস করা ব্রানসন ইজমির শহরের একটি চার্চে যাজক হিসেবে কাজ করতেন। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফেতুল্লাহ গুলেনকে ফেরত পেতে চাওয়ার কথা বলে আসছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বরজ তাইয়্যেব এরদোয়ান। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, বুধবার ‘স্বাস্থ্যগত কারণে’ ব্রানসনকে মুক্তি দিয়ে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।

বুধবার উপকূলীয় শহর ইজমিরের কারাগার থেকে ব্রানসনকে বের করে একটি গাড়িবহরে করে নিয়ে যাওয়া হয়। তার আইনজীবী বলেছেন, ব্রানসনকে একটি ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ ব্রেসলেট পরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলে আসছেন ব্রানসনকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ফেতুল্লাহ গুলেনকে ফেরত চায় তুরস্ক। ২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের জন্য গুলেনকে দায়ী করে থাকে তুরস্ক সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসেলভানিয়ায় বসবাসরত গুলেন ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাকে গ্রেফতার করে ফিরিয়ে দিতে তুরস্কের অনুরোধ মানেনি যুক্তরাষ্ট্র।

 ব্রানসনের ঘটনা সম্পর্কে জানা একটি মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রানসনের মুক্তির জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। গত সপ্তাহে তার বিচার চলার সময়েই তার মুক্তির আশা করেছিল ওয়াশিংটন।

পেশায় খ্রীষ্ট ধর্ম যাজক ব্রানসনকে নিরপরাধ আখ্যা দিয়ে বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য কোনও প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার পদক্ষেপ না নিলে তুরস্কের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ অবরোধ আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্স এর এই হুমকির পর বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও টুইটারে ব্রানসনকে বিশিষ্ট খ্রীষ্টান ও যাজক আখ্যা দিয়ে লিখেছেন, ‘’ দীর্ঘ সময় ধরে তাকে আটক রাখায় তুরস্কের ওপর বড় ধরনের অবরোধ আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বাসী এই নিরপরাধ মানুষটিকে তাৎক্ষনিকভাবে মুক্তি দেওয়া উচিত।

তবে তুরস্কের ওপর কী ধরনের অবরোধ আরোপ করা হবে তা ট্রাম্প বা পেন্স কেউই বিস্তারিত বলেননি।

তবে এসব হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসলোগু বলেছেন, ‘তুরস্ককে কেউ আদেশ দিতে পারে না। আমরা কারো হুমকি কখনও বরদাস্ত করবো না।’ তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইবরাহিম কালিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের বিবৃতি ও তাতে ন্যাটো মিত্র তুরস্কের প্রতি হুমকির ভাষা ব্যবহার অগ্রহণযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই তাদের পদক্ষেপ পুর্নবিবেচনা করতে হবে। আর নিজের এবং তুরস্কের সঙ্গে মিত্রতায় নতুন কোনও ক্ষতি হওয়ার আগে গঠনমূলক অবস্থান নিতে হবে।’

ব্রানসনের বিরুদ্ধে আনা ‘সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য না হয়েও তাদের পক্ষে অপরাধ সংঘটিত করার’ অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে তার। এছাড়া গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণ হলে আরও ২০ বছরের দণ্ড ভোগ করতে হতে পারে তার। তবে এসব অভিযোগ জোরালোভাবেই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

আনাদোলু জানিয়েছে, আদালতে সাম্প্রতিক এক শুনানিতে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হাজির করা হলেও তা প্রত্যাখান করেন তিনি। আদালতে ব্রানসন বলেন, ‘তুরস্কের আঞ্চলিক অখন্ডতায় আমার বিশ্বাস ও সমর্থন রয়েছে। যারা আমার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা বলছে আর ভুয়া প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষ্য দিচ্ছে তাদের আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।’ আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত এই মামলার শুনানি মুলতবি রয়েছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই ব্রানসনের মামলা নিয়ে দুই ন্যাটো মিত্র তুরস্ক আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শীতল সম্পর্ক চলছে। তবে এবারে তা হুমকি-পাল্টা হুমকির পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছালো।যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির প্রভাব পড়েছে তুরস্কের শেয়ারবাজারে।  ব্রানসনের আটকের পর তুরস্কের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের হুমকি দেওয়া মার্কিন সিনেটররা নতুন হুমকির বিষয়ে কোনও তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আল জাজিরা বলছে, ট্রাম্প ও পেন্স’র নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দক্ষিণপন্থী খ্রীষ্টান ভোটাররা। আর ব্রানসনের মামলায় তারাই ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন।