ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বন্ধ করে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ফাঁস হওয়া ই-মেইল থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অবস্থান দৃশ্যমান হয়েছে। ইহুদি ধর্মাবলম্বী কুশনার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। একইসঙ্গে তাকে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে তার ওই মেইলকে বেশ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
ইতোমধ্যেই মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপনের জন্য এ সংক্রান্ত দুইটি বিলের খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
চলতি বছরের গোড়ার দিকে চালাচালি হওয়া জ্যারেড কুশনারের এ সংক্রান্ত ই-মেইল সংবাদমাধ্যম ফরেন পলিসি’র হাতে এসেছে। এতে দেখা যায় জ্যারেড কুশনার মনে করেন, ইউএনআরডব্লিউএ-এর কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য কোনওভাবেই সহায়ক নয়। বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে অচলাবস্থা টিকিয়ে রাখছে। তাই এই সংস্থা বন্ধ করে দেওয়া হলে তা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরায়েল নামক রাষ্ট্র। এই বাস্তবতায় ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে একে একে বাস্তুচ্যুত হন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। জর্ডান ও অন্যান্য আরব দেশে আশ্রয় নেন তারা। বাস্তুচ্যুত এই ফিলিস্তিনিদের জরুরি সাহায্য দিয়ে আসছে ইউএন রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফুজিস ইন দ্য নিয়ার ইস্ট (ইউএনআরডব্লিউএ)। ৭০ বছর ধরে শরণার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে সংস্থাটি। বর্তমানে এর সুফল পাচ্ছেন বিভিন্ন দেশে প্রায় ৫০ লাখ ফিলিস্তিনি। ইতোপূর্বে ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও শরণার্থী সংস্থাটি বন্ধের দাবি উঠলো। ট্রাম্পের জামাতা মূলত সেই দাবিরই পুনরাবৃত্তি করলেন।
তেল আবিবের আশঙ্কা, সংস্থাটি যেহেতু উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিদের শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করে, ফলে এর কার্যক্রম বহাল থাকলে ভবিষ্যতে যে কোনও সময় এসব ফিলিস্তিনিরা নিজ ভূমিতে ফিরে আসতে চাইবেন। কিন্তু সংস্থাটি বন্ধ করে দেওয়া হলে আর এমন দাবির সুযোগ থাকবে না।
ইতোপূর্বে ইসরায়েলে দাবির মুখে সংস্থাটি মার্কিন অনুদান ৫০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এবার একধাপ এগিয়ে অনুদান কমানোর বদলে পুরো সংস্থাটিই বাতিলের কথা বললেন হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।
এই উদ্বাস্তুদের শরণার্থী স্ট্যাটাস বাদ দিয়ে বরং তাদের বিষয়টিকে একটি ইস্যু হিসেবে দেখতে চান ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত। তিনি চাইছেন, নতুন ইস্যু হিসেবে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনার টেবিলে এ বিষয়টিও উঠে আসুক। যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারাও কুশনারের এ সংক্রান্ত প্রচেষ্টার বিষয়টি ফরেন পলিসি’কে নিশ্চিত করেছেন।
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত কুশনারের পরিকল্পনা সম্পর্কে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও অবগত রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে প্রভাবশালী যুবরাজের নেতৃত্বে ফিলিস্তিন ইস্যুতে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবস্থান বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে এক সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ ইসরায়েলের নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকারের পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানান। এর আগে গত ডিসেম্বরে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, এমবিএস বলে পরিচিত সৌদি যুবরাজ ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে চাপ দিয়েছেন ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই প্রস্তাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে পশ্চিম তীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের কারণে উচ্ছেদ হওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার রাখা হবে না।