ইসরায়েলের নতুন ইহুদি জাতি-রাষ্ট্র আইনের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত ফিলিস্তিনি নেতারা। মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে পিটিশন দায়ের করেছেন তারা। গত সপ্তাহে আইনটি পাস করে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট।
মঙ্গলবার আদালাহ-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আইন ইসরায়েলের জাতিগত-ধর্মীয় চরিত্রকে বিশেষভাবে ইহুদি হিসেবে গ্যারান্টি দেয়। এর ফলে এখানে ইহুদি নাগরিকরা বাড়তি সুবিধা পাবে। একইসঙ্গে এটি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এদিকে সংখ্যালঘুবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফার্নান্দ দ্য ভারেননাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি অভিযোগ তদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ওই আইনের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেছেন হাই ফলো-আপ কমিটি ফর আরব সিটিজেন অব ইসরায়েল।
এ বছর মে মাসে ইসরায়েলের তায়্যিবি শহরে ওই কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় মানব সক্ষমতা সম্মেলনে যোগ দেন দ্য ভারেননাস। ইহুদি জাতি-রাষ্ট্র বিল কিভাবে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের ওপর হুমকি তৈরি করছে তা ওই সম্মেলনে আলোচিত হয়। ওই বিল আইনে পরিণত হলে ইসরায়েলের আদিবাসী সংখ্যালঘু গোষ্ঠীটি জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করে। ওই অভিযোগে নতুন এই আইন কিভাবে সাধারণভাবে ফিলিস্তিনি জনগণ ও বিশেষ করে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বর্জন করার মতো ধারা সংযুক্ত রয়েছে তা বর্ণনা করা হয়েছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের যৌথ তালিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির প্রধান ড. ইউসুফ জাবারিন বলেন, নতুন জাতিরাষ্ট্র আইন নিজেদের ভূমিতে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলেছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের পরিস্থিতি ও অধিকারকেও হুমকির মুখে ফেলেছে এই আইন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা একটি জাতীয় ও নৃতাত্তিক সংখ্যালঘু গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক চুক্তি তাদের একত্রে থাকা, জাতীয়তা, সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে নতুন জাতিরাষ্ট্র আইন এর সবকিছুই লঙ্ঘন করছে।
জাতিসংঘে দায়ের করা অভিযোগে জাতিরাষ্ট্র আইনে বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী ধারা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আইনে ইহুদি বসতিতে উৎসাহ আর ‘ইহুদি জাতীয় মুল্যবোধ’ রক্ষার নামে ও আবাসনের ক্ষেত্রে জাতিবিদ্বেষকে বৈধতা ও আরবি ভাষার মর্যাদাহানি ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইহুদি নাগরিকদের দেশটির মূল জনগোষ্ঠীর চেয়ে বেশি নাগরিক সুবিধা ও নাগরিকদের বিভাজন তৈরিকারী ধারা সংযুক্ত করে সমতার মূলনীতি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই অভিযোগে।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া ওই আইনে দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ঐতিহাসিকভাবেই ইহুদিদের জন্মভূমি আখ্যা দেওয়া হয়। বলা হয়, সঙ্গত কারণেই এখানকার মাটিকে নিজেদের দাবি করার অধিকার রয়েছে তাদের। আইনে অবিভক্ত জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাস হওয়ার পর ওই আইনের নিন্দা জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মিসরও এই আইনপাসের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষসহ আরব নাগরিকেরা এই আইনকে বর্ণবাদী আইন আখ্যা দেয়। বিভিন্ন দেশের বুদ্ধিজীবীরাও এই আইনের সমালোচনা করেছেন।