জাতিসংঘ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই ইরানের

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা অন্যকোনও মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার কথা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ

২০১৫ সালে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে পরমাণু চুক্তির পর ইরানের উপর থেকে এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন এসব নিষেধাজ্ঞাই আবার আরোপ করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাবের বিষয়ে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ বাড়ছে। গত মে মাসে ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ঘোষণাও দেয় যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার থেকে মার্কিন ডলার সংগ্রহে বিধি-নিষেধ, ধাতব জিনিসসহ অন্যান্য পণ্য রফতানি, কয়লা, শিল্প সংক্রান্ত সফটওয়্যার ও মোটরখাত বেশ কয়েকটি বিষয়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। এছাড়া ইরানের তেল রফতানিও ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আগামী নভেম্বর মাস থেকে কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনও ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করলে গত সোমবার সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

শনিবার তাসনিমের খবরে বলা হয়, সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পার্শ্ববৈঠকে মাইক পম্পেওসহ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে জারিফ বলেন, ‘না, এমন কোনও বৈঠকের পরিকল্পনাই নেই। আমরা বারবার আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি।’ জাফরি বলেন, ‘ট্রাম্পের প্রস্তাবের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ও আমি দুজনই আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমেরিকানদের সততার ঘাটতি রয়েছে।’

ওমানের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে কোনও বার্তা পাঠিয়েছে কিনা জানতে চাইলে জাফরি বলেন, ‘এ ধরনের কোনও বার্তা তিনি পাননি।’ জাফরি এর আগে বলেছিলেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতা করেছিল ওমান ও সুইজারল্যান্ড। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আলোচনা হচ্ছে না।