ইয়েমেনে স্কুলবাসে বিমান হামলা চালিয়ে শিশুহত্যার ঘটনায় তোপের মুখে এ ব্যাপারে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি সামরিক জোট। বিবিসি’র খবরে বৃহস্পতিবারের ওই হামলায় ২৯ শিশু নিহতের কথা জানানো হয়েছে। তবে হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে ৪০ জনই শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৭৯ জন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার চালানো ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে এর তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। তার এমন আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা।
হুথি সু্প্রিম রেভ্যুলশনারি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল আল হুথি বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানকে স্বাগত জানাই। আমরা সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত।’
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিটা ফোর বলেন, ভয়াবহ এই বাস হামলায় বোঝা যায় ইয়েমেনের অবস্থা কতটা খারাপ। প্রশ্ন হচ্ছে এখন কি সব পক্ষ নতুন করে চিন্তা করবে? শিশুদের কথা চিন্তা করে এখনই এই সংঘাত থামানো উচিত।
তিন বছর আগে ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা’র দখলে নেয় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন হাদি। মূলত এরপর থেকেই নিজের অনুগতদের ক্ষমতায় ফেরাতে দেশটিতে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি জোট। এ হামলা থেকে বাদ যায়নি স্কুলবাস, বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে জানাজার নামাজও। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত তাদের হামলায় নারী ও শিশুসহ প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সৌদি আরবের দাবি, হুথিদের ওপর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনেই হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদের দাবি, শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে হুথিরা। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা।