ডেড সি রক্ষায় নতুন খনি চুক্তি করতে চায় ইসরায়েল

প্রতিবছর প্রায় এক মিটার করে কমে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ডেড সি বা মৃতসাগরের আয়তন। সাগরের সৈকত পরিণত হচ্ছে মরুভূমিতে আর শুকনো জমিতে দেখা দিচ্ছে অনেক গর্ত। এর ফলে এলাকাটিতে ধীরগতি পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। এসবের মূল কারণ হলো সাগরের পানির প্রধান উৎস জর্ডান নদীর পানি কমে যাওয়া। উজানের কৃষিকাজ ও পান করার জন্য পানি সংগ্রহের কারণে সাগরের পানির সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি সাগরের খনিগুলোতে প্রচুর পানির ব্যবহারও এই পানি কমার অন্যতম কারণ। তাই এবার খনিগুলোর সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে চাচ্ছে ইসরায়েল। নতুন চুক্তিতে তারা খনির কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

ডেড সি’র মধ্যে ইসরায়েলি কারখানা

ডেড সি থেকে প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ কোটি কিউবিক মিটার পানি কমে যাচ্ছে। এর মধ্যে খনিতে ব্যবহারের কারণে কমছে ২৫ থেকে ৩৫ কোটি কিউবিক মিটার পানি। এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার এসব খনির বিষয়ে তেমন কোনও হস্তক্ষেপ করেনি। আগে এটি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকলেও এখন তা ইসরায়েল কেমিক্যালস-আইসিএল’র কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে ইসরায়েল এখন ডেড সি’র খনির ইজারা নতুন করে দিতে চায়। নির্ধারিত সময়ের ৮ বছর আগেই ২০২২ সাল তা শুরু করতে চায় দেশটি। শুধু পরিবেশ বিপর্যয়ই নয়, খনি নিয়ে ভাবনার অন্যতম কারণ হলো চুক্তির শেষ বছরে আইসিএল সেখানে আর কোনও বিনিয়োগ করবে না।

সরকার মনে করে, আইসিএল এই প্রস্তাবে রাজি হবে। কারণ হলো, প্রতিষ্ঠানটিকে আগে চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার অধিকার দেওয়া হবে। তবে বর্তমান চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রেও তেমন কোনও শক্তিশালী কারণ নেই। তবে নতুন চুক্তি হলে ২০২০ সাল থেকে সরকার চাইলে খনির কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

আইসিএল’র প্রধান সম্পত্তি হলো সেখানকার কারখানা। সেখান থেকে ফসলের জন্য ব্যবহৃত পটাশ সার, বারুদ হিসেবে ব্যবহৃত ব্রোমিনসহ অন্যান্য পণ্য বিশ্বের নানা প্রান্তে বিক্রি করে শত শত কোটি ডলার আয় করে প্রতিষ্ঠানটি। ‍প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ধনকুবের ইদান অফারের ইসরায়েল ক্রপ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনও অবস্থান জানায়নি।

প্রতিবছর কমছে ডেড সি’র আয়তন

গত মে মাসে প্রথমবারের মতো ডেড সি’র পরিবেশগত স্বার্থের সঙ্গে লাভের সমন্বয় করার জন্য একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করে ইসরায়েলের একটি উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি। ওই কমিটির সদস্য ও পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী মহাপরিচালক গালিত কোহেন বলেন, ‘চুক্তি শেষ হতে যাচ্ছে আর আমরা একটি নতুন সময়ে ঢুকতে যাচ্ছি। তাই কারখানার কার্যক্রম ও পুরো এলাকার পরিবেশের ওপর প্রভাবের নতুন মাত্রা ঠিক করে দেওয়ার জন্য এটা একটা বড় সুযোগ।’

কোহেন বলেন, এখন উৎপাদন সর্বোচ্চ করার জন্য আইসিএল যা খুশি তাই করতে পারে। তিনি বলেন, ‘খনিতে পানির ব্যবহার কমানোর জন্য তাদের কোনও আগ্রহ নেই। অথবা মনে করে, তারা যেখানে খুশি প্রাচীর নির্মাণ করতে পারবে।’

ডেড সি হাজার বছর ধরে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ ও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। তারা এই সাগরের মাটি গায়ে মাখে বা অনেক বেশি ঘনত্বের পানিতে ভেসে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু ঘাটতি পূরণ হলেও নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সাগরটির পানি শুকিয়ে যাবে। কারণ খনির কাজের জন্য এখানে প্রচুর পানির দরকার হয়।