ভারতের মুম্বাইয়ের একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে চারজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৬ জন নারী। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। বুধবার মুম্বাইয়ের পারেল এলাকার হিন্দমাতা সিনেমা হলের কাছে ক্রিস্টাল টাওয়ার নামে ওই আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমই এ খবর জানিয়েছে।
নিহতের খবর নিশ্চিত করে মুম্বাইয়ের কেইএম হাসপাতালের ডিন অবিনাশ সুপি হিন্দুস্তান টাইমস’কে বলেন, আগুনের ঘটনায় মোট ২০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে চারজন মারা যায়। নিহতদের মধ্যে একজন নারী। বাকী সবার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
খবরে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগে। সোয়া ১০টার দিকে আগুন নেভানো হয়। দমকল বাহিনীর কর্মীরা আটকে পড়াদের উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাচ্ছে। তারা ফ্ল্যাটগুলোতে প্রবেশের জন্য দরজার ছিটিকিনি ভেঙে ফেলছেন।
সহকারী প্রধান অগ্নি নির্বাপন কর্মকর্তা আর চৌধুরী বলেন, ভবনটির উচ্চতা ও চাপাচাপির কারণে আগুন নেভাতে সমস্যা হয়েছে। ভবনটির অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থাও কাজ করেনি। তাই অতিউচ্চ ভবনটিতে কাজ করা কঠিন হয়েছে। ভবনটির উপরের তলাগুলোতে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ক্রেন ব্যবহার করা হয়েছে। ওই সময় কেউ আহত না হলেও সাধারণ চেকআপের জন্য সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আটকে পড়াদের মধ্যে দুইজনকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
প্রধান অগ্নি নির্বাপন কর্মকর্তা পি রাহাঙ্গদালে বলেন, ১২ তলায় আগুন লাগার পর ব্যাপক ধোঁয়া দেখা যায়। ওই ধোঁয়া উপরের তলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার কারণে সিঁড়িসহ বের হওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।
দমকর্মীদের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ১০ বছরের জেন সাদাওয়ারকার জানায়, ‘ভেতরের সবখানে ধোঁয়া ছিল। আমরা শুনতে পাই লোকজন আমাদের বের হয়ে আসার জন্য বলছে। তাই আমরা জানলার কাছে ছুটে যাই। পরে দমকল বাহিনীর লোকজন আমাদের নিচে নামিয়ে আনে।’
এই আগুনের কারণ সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি। আগুন লাগার পর দমকল বাহিনীর ২০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। প্রথমে আগুনটি মধ্যম পর্যায়ের থাকলেও পরে বড় পর্যায়ে রুপ নেয়।
গত ১৩ আগস্ট পারেল এলাকার একটি গুদামে মাঝারি ধরনের একটি অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে সেন্ট্রাল মুম্বাইয়ের কমলা মিলস কম্পাউন্ডে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জন নিহত হয়।