পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনিকে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

মাত্র পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনিকে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে জাতিসংঘের হিসাব মতে, এখন ফিলিস্তিনি শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র নীতিগত পরিবর্তন আনার জন্য এমন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি টেলিভিশনের খবরের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের জন্য ইউএনআরডব্লিউএ`র ত্রাণ সহায়তা

শনিবার ওই খবরে বলা হয়, আগামী সেপ্টেম্বরে প্রকাশিতব্য এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ স্বীকৃত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের চিহ্নিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করবে। যা জাতিসংঘের তালিকায় থাকা শরণার্থীদের এক দশমাংশ। আরব-ইসরায়েল প্রথম যুদ্ধের পর ৭ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের বসত-ভিটা থেকে উচ্ছেদ করার পর ১৯৪৯ সালে ইউএনআরডব্লিউএ গঠন করা হয়। তারা এখন প্রায় ৫০ লাখ শরণার্থীকে সহায়তা করে থাকে।

দ্য ইসরায়েল টেলিভিশন নিউজ কোম্পানির খবরে বলা হয়, ইউএনআরডব্লিউএ’র দেওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থীর সংজ্ঞা মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান নিয়মে শরণার্থীর মর্যাদা এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তর করা হয়। খবরে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিমতীরে ইউএনআরডব্লিউএ’র জন্য তহবিল বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে। এছাড়া সংস্থাটির কার্যক্রম কমানোর জন্য ইসরায়েলকে আহ্বানও জানাবে। ইউএনআরডব্লিউএ’র সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্র ২০‌১৭ সালেও সংস্থাটিকে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের তহবিল যোগান দিয়েছে।

এই মাসের শুরুতে খবর পাওয়া যায়, ট্রাম্পের জামাতা ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জেরার্ড কুশনার জর্ডানে অবস্থানরত ২০ লাখের বেশি নিবন্ধিত ফিলিস্তিনি বাসিন্দার শরণার্থী মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার জন্য দেশটির ওপর চাপ দিয়েছেন। মার্কিন ম্যাগাজিন ফরেইন পলিসি’র খবরে বলা হয়, গত জুন মাসে ওই অঞ্চলে ভ্রমণের সময় কুশনার জর্ডানের কর্মকর্তাদের এই কথা বলেন।

ওই প্রতিবেদনের পর প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য হানান আশরাবি বলেন, ইউএনআরডব্লিউএ’কে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলে তার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতেই কুশনার ও ট্রাম্প প্রশাসন এমন উদ্যোগ নিয়েছে। আশরাবি জানান, কুশনার বলেছেন এসব দেশেই শরণার্থীদের পুনর্বাসন হয়ে গেছে আর ইউএনআরডব্লিউএ যা করছে এসব দেশের সরকারই তা করতে পারবে।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএনআরডব্লিউএ’র জন্য বরাদ্দকৃত ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে থেকে সাড়ে ৬ কোটি ডলার স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসংঘ সদস্যদের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় পাওয়া তহবিল দিয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তা করছে।

শুক্রবার ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা থেকে আগেই ৬৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ প্রত্যাহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর পরের দিনই নতুন প্রতিবেদনের খবর পাওয়া গেল। পিএলও’র মহাসচিব সায়েব এরেকাত শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মার্কিন সহায়তার মাধ্যমে অন্য দেশের মানুষের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও তাদের জাতীয় অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই এই আক্রমণাত্মক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’ এরেকাত বলেন, সহায়তা বাতিল করার মার্কিন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বোঝা যায় দেশটি তার আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণ যেকোনও শর্তসাপেক্ষ সহায়তা বর্জন করবে।’ তিনি বলেন, মার্কিন সহায়তা আমাদের জনগণের জন্য উপহার নয়। ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।