মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল বন্ধের দাবিতে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে মামলা করেছে ইরান। সোমবার ওই মামলার প্রাথমিক শুনানিতে ইরান অভিযোগ করেছে, তাদের অর্থনীতির ক্ষতি করার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলেছে, ইরানকে নতজানু করতেই পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটা ১৯৫৫ সালের বন্ধুত্ব চুক্তির লঙ্ঘন বলেও অভিযোগ করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।
২০১৫ সালে পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে ছয় পরাশক্তি। গত মে মাসে চুক্তিটি থেকে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের তরফ থেকে হুমকি দেওয়া হয়, ইরানের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের তেল রফতানি আয় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চায় তারা। এজন্য বিভিন্ন দেশের ওপর হুমকি ও চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছেন তারা। গত চার জুলাই ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিরুদ্ধে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী দেশ, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ আদালতে মামলা করলো ইরান।
সোমবার মামলাটি দায়ের করার পর জাতিসংঘের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক শুনানি শুরু করেছেন। তার আগে তিনি এর ফলাফল মেনে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কয়েক দশকের শত্রুতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই আদালতের বেশ কয়েকটি নিদের্শনা উপেক্ষা করেছে।
আদালতে ইরানের পক্ষে আইনজীবী মোহসেন মোহেবি বলেন, ইরানের অর্থনীতি ও ইরানি কোম্পানিগুলো যত দূর সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে একটি নীতি প্রচার করছে। যা নিশ্চিতভাবে ইরানি নাগরিকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি আরও বলেন, এই নীতি দুঃখজনকভাবে ১৯৫৫ সালের সৌহার্দ্যের চুক্তির লঙ্ঘন। তিনি বলেন, ইরান দুই দেশের সমস্যাগুলো কূটনৈতিকভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই মামলার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় লিখিতভাবে আদালতে বলেছে, দেশটি মনে করে, এই ইস্যুতে আইসিজে’র বিচার করার কোনও এখতিয়ার নেই। আর ইরানের অভিযোগও এই চুক্তির আওতায় পড়ে না। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জেনিফার নিউস্টিডের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। মামলাটিতে এক মাসের মধ্যে একটি নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তার কোনও তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।