রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের সমর্থন

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের করা প্রতিবেদনের প্রশংসা করেছে যুক্তরাজ্য। সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্তাদের শাস্তির আওতায় আনার কথা বলা হয়। এই প্রতিবেদনে সমর্থন জানিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেছেন, দোষীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।  

টেকনাফের হ্ণীলা অনিবন্ধিত শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা

গত বছরের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার হামলাকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলা হলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সব পথ বন্ধ করতে আরসার হামলার আগে থেকেই পরিকল্পিত সেনা-অভিযান শুরু হয়েছিল। চলমান জাতিগত নিধনে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এক বছরেও মিয়ানমারের এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। এখনও আশার আলো দেখার মতো, নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থায় নেই বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ মানুষ।

জাতিসংঘের করা প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীকে দায়ী করা ছাড়াও বেসামরিক সর্বোচ্চ নেতা অং সান সু চিরও সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ ঠেকাতে নিজের নৈতিক অবস্থান ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের এশিয়া ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেন, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনই আসলে বলে দেয় মিয়ানমারে ২০১১ সাল থেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। গত বছর আগস্টে রাখাইনে হামলা ব্যতিক্রম কিছু নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমার মতো যারা এই সংকটে সরাসরিভাবে নিজেদের যুক্ত করেছে কিংবা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা জানেন মানবাধিকার লঙ্ঘন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের জন্য আসলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীই দায়ী।’ তিনি বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে শক্তিশালী আলামত রয়েছে যে সেনাবাহিনীই এরজন্য দায়ী।

যুক্তরাজ্যের এশিয়া ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড

মার্ক ফিল্ড বলেন, ‘এই ঘটনায় তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। তাদের ছেড়ে দেওয়া যাবে না। জাতিসংঘের মিশনও শীর্ষ সেনাকর্মকর্তাদের শাস্তি ও তদন্তের কথা বলেছে যেন সংশ্লিষ্ট আদালত হত্যাযজ্ঞে দায়ী থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।’

ব্রিটিশ সরকার জানায়, এই প্রতিবেদনে গভীরতায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মানবাধিকার পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। মার্ক ফিল্ড বলেন, সেপ্টেম্বরে মানবাধিকার পরিষদে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলবে ব্রিটেন।  

তিনি বলেন, ‘এখন মিয়ানমার সরকারের কমিশনের নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা ও দায়ীদের শাস্তি দেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের এক বছর হওয়ার পর জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে এক বছর ধরে ধর্ষণ, গণহত্যা ও বাড়িতে আগুন দেওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন সাক্ষাতকারের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় তারা। এই বিশেষজ্ঞ কমিটির নেতৃত্ব দেন মানবাধিকার আইনজীবী আরজুকি দারুসম্যান। রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে এখন পর্যন্ত এটাই সংস্থাটির সবচেয়ে বড় নিন্দা।

আরও পড়ুন: মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রমাণ সংহত করেছে জাতিসংঘ প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র