সিএনএন প্রধানকে বরখাস্তের আহ্বান ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর বিরুদ্ধে বরাবরই ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সকালে টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে সংবাদ প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট জেফ জুকারের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রতি ঘৃণা ও চরম পক্ষপাতের কারণে সিএনএন ঠিকমত কাজই করতে পারছে না। সামান্য এক জেফ জুকার ভয়ঙ্কর কাজ করে ফেলেছে। তার রেটিংয়ের অবস্থাও বাজে। টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানটির উচিত বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে তাকে বরখাস্ত করা।’

nonameসম্প্রতি হার্ট সার্জারির কারণে সিএনএন থেকে ছয় সপ্তাহের ছুটিতে আছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট জেফ জুকার। এমন সময়েই তাকে নিয়ে টুইটারে তীর্যক পোস্ট করলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের দাবি অবশ্য প্রত্যাখ্যান করেছে সিএনএন। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সিএনএনের প্রেসিডেন্ট কোনও ভুল করেননি। এই সংবাদমাধ্যম মিথ্যাচার করে না; বরং খবর প্রচার করে। ক্ষমতাবানদের মিথ্যাচার নিয়ে খবর প্রচার করে।

সিএনএন-এর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, চলতি আগস্ট মাসে টিভি চ্যানেলটির দর্শক সংখ্যা সাত লাখ সাত হাজার। এ মাসে এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেটিং।

মূল ধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে ফেক নিউজ আখ্যা দেওয়া ট্রাম্প সিএনএনের ব্যাপারে বরাবরই ক্ষুব্ধ। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে অভিষেক ট্রাম্পের। নির্বাচিত হওয়ার পর ১১ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে নিজ কার্যালয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর এতেই সিএনএন-এর প্রতিবেদকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এই ব্যবসায়ী কাম রাজনীতিক। এমনকি সংবাদমাধ্যমটি ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করে দাবি করে তাদের প্রতিনিধিকে কোনও প্রশ্ন করারও সুযোগ দেননি ট্রাম্প।

সিএনএন-এর খবরে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসায় সংবাদমাধ্যমটির প্রতি এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন ট্রাম্প। এই ক্ষোভেরই হয়তো বিস্ফোরণ ঘটেছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্পের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে। আর পুরো নির্বাচনি প্রচারণায় ফক্স নিউজ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারার প্রায় সব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেই কমবেশি অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন ট্রাম্প। এর ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সংযোজন বৃহস্পতিবার সিএনএন প্রধানের পদত্যাগ চেয়ে টুইটারে দেওয়া তার পোস্ট। সূত্র: বিবিসি।