শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ইসরায়েলের

নিজ দেশের গোপনীয় একটি পারমাণবিক চুল্লির সামনে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি এই হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের খবর পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটর। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী কোনও শত্রুর নাম উল্লেখ না করলেও তার হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাবেদ জাফরি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধবাজ আখ্যা দিয়েছেন।বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

গত বুধবার মরু শহর দিমোনার কাছের একটি স্থানে পারমাণবিক চুল্লির পুনরায় নামকরণ অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যারা আমাদের নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেয় তাদেরকে একই বিপদের মধ্যে ফেলে দেওয়া হবে। আর কোনও অবস্থাতেই তারা তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না’। সন্দেহ করা হয়ে থাকে দিমোনার কাছের ওই পারমাণবিক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে।

ইসরায়েলের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধবাজ’ আখ্যা দিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জাফরি টুইটারে লিখেছেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্রহীন দেশ ইরানকে একটি সত্যিকার পারমাণবিক অস্ত্র কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে এক যুদ্ধবাজ।’

ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও মন্তব্য করেছেন জাফরি। বলেছেন, ‘বিশ্ব যখন আন্তর্জাতিক পরমাণু পরীক্ষা বিরোধী দিবস পালন করছে তখন চলুন স্মরণ করি আমাদের অঞ্চলে শুধুমাত্র ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা রয়েছে: আগের দেশটি একটি স্বভাবজাত আগ্রাসনকারী আর পরেরটি পারমাণবিক অস্ত্রের একমাত্র ব্যবহারকারী। আরও স্মরণ করা যেতে পারে ১৯৭৪ সাল থেকে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত এলাকা ঘোষণা করেছে’।

পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা কখনওই স্বীকার করেনি ইসরায়েল। এর পরিবর্তে তারা ‘অস্পষ্টতার নীতি’ বজায় রাখে। তবে বিদেশি প্রতিবেদনগুলোর ধারণা ইসরায়েলের কাছে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রের পরিমাণ শতাধিক।

এই মাসের শুরুতে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স এন্ড গ্লোবাল সিকিউরিটি জার্নালে দাবি করা হয় আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে ইসরায়েল অবৈধ পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে।