বৈঠকের আগেই ইদলিবে অভিযান শুরু সিরিয়া ও রাশিয়ার, নিহত ১০

সিরিয়ার বিদ্রোহীদের  শেষ ঘাঁটি ইদলিবে বিমান হামলা শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ অনুগত বাহিনী ও তার মিত্র রাশিয়া। শুক্রবার ইরানে আসাদের এই অভিযান নিয়ে আলোচনায় বসার কথা ছিলো রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের। তবে তার আগেই মঙ্গলবার রাশিয়া হামলা শুরু করে।

b75d718dd79c481f907d9404f79a8f90_18

প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার সিরিয়াজুড়ে বিদ্রোহীদের দমন করতে পারলেও ইদলিবে এখনও বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের শেষ বড় ধরনের লড়াই হবে এখানেই। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে,  ইদলিবে এখনও ১০ হাজার আল-নসুরা ও আল-কায়েদা সদস্য অবস্থান করছে। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিদ্রোহীদের শেষ শক্তিশালী ঘাঁটি ইদলিবে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে ট্রাম্প টুইটারে হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন, এই বেপরোয়া অভিযান হবে বড় ধরনের মানবিক ভুল এবং এই অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি বলেছেন, ইদলিবে আসাদ, রাশিয়া ও ইরানের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই।জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছিলো ইদলিবে হামলা চালালে সেখানে ‘রক্তবন্যা’ হয়ে যেতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, মঙ্গলবার থেকে অন্তত ২৪টি হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় এই হামলা শেষ হয়। ইদলিবের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিস আল শুগরেই মূলত এই হামলা চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এর চারপাশে থাকা ছোট শহর ও গ্রামগুলোও।

হোয়াইট হেলমেটস নামে খ্যাত সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স জানায়, বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। অন্যা সূত্রগুলো জানায় নিহতের সংখ্যা ১৭।  

হোয়াইট হেলমেটস এর মুখপাত্র ইয়ারজি বলেন, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের পাঁচ শিশু রয়েছে। তার দাবি, হামলায় শুধু বেসামরিক ভবনগুলোই লক্ষ্য করা হয়েছে। চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে তবে এটা খুবই কঠিন।  তিনি বলেন, আজ রাতে বাসিন্দারা নিজ বাড়িতে ঘুমাতেও ভয় পাচ্ছে। 

সিরীয় বাহিনীর যেসব এলাকায় জয়লাভ করেছে সেখানকার বিদ্রোহী ও তাদের পরিবার ইদলিবে আশ্রয় নিয়েছে। এখন ইদলিব থেকে তাদের উৎখাত করা হলে সিরিয়ায় যাওয়ার মতো কোনও জায়গা নেই। ইদলিবে যে কোনও অভিযানে তুরস্কের সঙ্গেও উত্তেজনা বাড়বে। এই পরিস্থিতিতেই আগামী শুক্রবার তেহরানে সিরিয়া, ইরান ও তুরস্কের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে রুহানি, পুতিন ও এরদোয়ান রাশিয়ার সোচি শহরে প্রথম সিরিয়া বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন।  ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল তুরস্কের আঙ্কারায় তিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  এরই  ধারাবাহিকতায় এবার তেহরানে তাদের মধ্যে তৃতীয় বৈঠক হতে যাচ্ছে।