লিবিয়ায় শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে দুই পক্ষ

লিবিয়ায় সশস্ত্র প্রতিপক্ষরা শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত জাতিসংঘ মিশন। মঙ্গলবার ত্রিপোলিতে এক সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

Tripoli Reuters২০১১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর ত্রিপোলিতে জাতিসংঘের সমর্থনে একটি মনোনীত সরকার রয়েছে। ওই কর্তৃপক্ষকে জাতীয় চুক্তির সরকার বা জিএনএ নামে অভিহিত করা হয়। তবে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হাতে রয়ে গেছে।

গত এক সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। রাজধানী ত্রিপোলিতে সশস্ত্র হামলা করতে থাকে তারা। এসময়ে নিহত হয় ৬১ জন, আহত হয় অনেকে।  

লিবিয়ায় জাতিসংঘের মিশন জানায়, ‘জাতিসংঘের বিশেষ দূত জিহাসান সালামের উপস্থিতিতে সবরকম সহিংসতা বন্ধ, জনগণের নিরাপত্তা ও বেসামরিকদের সুরক্ষায় একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

২৭ আগস্ট ত্রিপোলিতে সংঘর্ষ শুরু হয়। একদিন পরে জাতিসংঘ সমর্থিত একটি শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হলেও কিছুক্ষণ পর আবার হামলা শুরু হয়। রবিবার জারি করা হয় জরুরি অবস্থা।

এরপর সোমবার ত্রিপোলিতে ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের স্টেশন চালু রাখা যাচ্ছে না।   

দীর্ঘ সময় ধরে লিবিয়া শাসন করা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ২০১১ সালের অক্টোবরে ক্ষমতাচ্যুত করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। বেসামরিক ব্যক্তিদের রক্ষার নামে চালানো হামলায় মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হলে দেশটি এক বিশৃঙ্খল অবস্থায় পড়ে। বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ নিজেদের সরকার ও পার্লামেন্ট গঠন করে। আর একে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়। ২০১৬ সালে জাতিসংঘের সমর্থনে মনোনীত জিএনএ কর্তৃপক্ষ ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ নেয়।