আসাদকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প: নতুন বইয়ে বব উডওয়ার্ড

গত বছর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে হত্যা করাতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিমস ম্যাটিস সে অনুরোধটি উপেক্ষা করেন। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ফাঁসে জড়িত বিখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের লেখা নতুন এক বইতে এ দাবি করা হয়েছে। তবে এই বইকে ‘আরেকটি বাজে বই’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

ট্রাম্প ও আসাদ
মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) ‘ফিয়ার: ট্রাম্প ইন দ্য হোয়াইট হাউস’ নামে লেখা বইটির সারাংশ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বইটির মোড়ক উন্মোচন করার কথা রয়েছে। বইতে ২০ মাস ধরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের অন্য কর্মকর্তাদের মতের অমিল ও টানাপড়েনের বিস্তারিত তুলে ধরার দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ট্রাম্পের কোনও সিদ্ধান্তকে ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক মনে করলে তার সহযোগীরা যে তা উপেক্ষা করেন এটা তার নমুনা।

১৯৭০ সালে বিখ্যাত ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস করে আলোচনায় আসেন বব উডওয়ার্ড। এরপর তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টদের প্রশাসনের আড়ালের অনেক ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। এবার তিনি নতুন আরেকটি তথ্য সামনে নিয়ে আসার দাবি করলেন। নতুন বইতে উডওয়ার্ড লিখেছেন: ২০১৭ সালের এপ্রিলে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাসায়নিক হামলা চালানোর পর তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ম্যাটিসের কাছে সে ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ম্যাটিস তখন ট্রাম্পকে বলেন, তিনি দ্রুত এ কাজটা করছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের অনুরোধ এড়িয়ে গেছেন তিনি। বরং ম্যাটিস সীমিতমাত্রার বিমান হামলার পরিকল্পনা করেন যা ব্যক্তিগতভাবে আসাদের ক্ষতি করবে না।

বব উডওয়ার্ড ও ট্রাম্প
বইয়ে দাবি করা হয়, ম্যাটিস তার সহযোগীদের বলেছিলেন, ট্রাম্প পঞ্চম-ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়াদের মতো আচরণ করছেন।

বব উডওয়ার্ডের নতুন বইটি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন ট্রাম্প। ডেইলি কলারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটি আরেকটি বাজে বই মাত্র’। তার দাবি বইয়ে ম্যাটিসসহ অন্যদের যেসব উদ্ধৃত ব্যবহার করা হয়েছে তা ভুয়া। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ম্যাটিসও দাবি করেছেন, বইয়ে ট্রাম্পকে নিয়ে যেসব শব্দ লেখা হয়েছে তা তিনি (ম্যাটিস) কখনও উচ্চারণ করেননি কিংবা তার সামনে কেউ উচ্চারণ করেনি।