ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের চুক্তিতে যে ছয়টি দেশ স্বাক্ষর করেছিল তা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার পর এখনও পর্যন্ত চুক্তিতে রয়েছে বাকি পাঁচটি দেশ। এই দেশগুলো এখন কিভাবে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া যায় তার উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
এই পাঁচ দেশ এমন একটি নতুন এবং বৈধ আর্থিক লেনদেনের প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে যাচ্ছে; যাতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া যায়, আবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোরও শিকার হতে না হয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকো মোঘেরিনি মঙ্গলবার জাতিসংঘে এক আলোচনার পর এমন তথ্য জানান।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা বলা হচ্ছে তার মাধ্যমে মার্কিন শেয়ার বাজার কিংবা ডলার ব্যবহার না করেই ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন চালানো সম্ভব হবে। কিন্তু এই ব্যবস্থা কিভাবে কাজ করবে সে সম্পর্কে এখনই পরিষ্কার কোনও চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বিনিময় প্রথা চালুর ইঙ্গিত দিচ্ছেন। অর্থাৎ, ইরানি তেলের বিনিময়ে ইরানে ইউরোপীয় পণ্য পাঠানো হবে। কিন্তু ব্যাংকের মাধ্যমে কোনও প্রকার অর্থের লেনদেন হবে না।
ফেদেরিকা মোঘেরিনি বলেন, এর মানে হলো ইইউ-সদস্য রাষ্ট্রগুলো এমন একটি বৈধ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে যার মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন চালানো হবে। ই্উরোপীয় ইউনিয়নের আইন মেনে তখন ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও একই ব্যবস্থা চালু হতে পারে।
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে বলা হয়েছিল, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করবে। চুক্তি করার পরই এ দেশগুলোর তেল কোম্পানি এবং অন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে। কিন্তু নভেম্বর মাস থেকে ইরানের ওপর মার্কিন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা নতুন করে কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে কেউ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে যুক্তরাষ্ট্রের দরজা তাদের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। তা যেন না হয়, সেজন্যই একটা পথ বের করার চেষ্টা চলছে। এখন কারিগরি বিশেষজ্ঞরা অর্থ পরিশোধের উপায়গুলো নিয়ে আরও আলোচনা করবেন।
এই উদ্যোগের মূলে রয়েছে ইউরোপ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোঘেরিনি বলছেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা বজায় রাখার প্রশ্নে তারা বদ্ধপরিকর। তবে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এতে আদৌ কোনও কাজ হবে কিনা। কারণ এমন কোনও নতুন পদ্ধতি নিলে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন আইন করে সেগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসতে পারে। কেননা, ট্রাম্প মনে করেন, তার এসব চাপের ফলে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নতুন একটি পরমাণু চুক্তি করতে বাধ্য হবে। ইতোমধ্যেই মার্কিন নীতির কারণে ইরানের মুদ্রার বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।