ভূমিকম্প থেকে যাত্রীদের রক্ষায় প্রাণ উৎসর্গ করলেন বিমানকর্মী

ঘটনাস্থল ইন্দোনেশিয়ার এক বিমান বন্দর। শুক্রবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় রানওয়েতে নামছিল একটি যাত্রীবাহী জেট বিমান। ভূ-কম্পন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) কেবিন টাওয়ার থেকে বেরিয়ে গেলেন সমস্ত বিমানকর্মী। থেকে গেলেন কেবল একজন। অন্থনিয়াস গুনায়ান অগুং নামের ওই কর্মকর্তা একাই শতাধিক যাত্রীবাহী বিমানটির নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করলেন। এরপর অগুং চার-তলা টাওয়ারের ওপর থেকে বাঁচার জন্যে লাফিয়ে পড়েন। তবে শতাধিক মানুষের জীবন বাঁচালেও নিজে বাঁচতে পারেননি তিনি।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ২১বছর বয়সী অন্থনিয়াস গুনায়ান অগুং সুলাভেসি দ্বীপে শুক্রবার পালু’র মুটিয়ারা এসআইএস আল-জুফরি বিমান বন্দরের ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে একাধিকবার ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় দায়িত্বরত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত বাটিক এয়ারের একটি প্লেন নিরাপদে অবতরণ না করে ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তার কর্মস্থল পরিত্যাগ করতে অস্বীকার করেন। তবে তার সহকর্মীবৃন্দ ওই সময়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
ইয়োহান্স হ্যারি সিরাইট নামে ওই বিমান বন্দরের এক মুখপাত্র জানান, ‘ভূমিকম্পের সময় তিনি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) কেবিন টাওয়ার ত্যাগের আগে বাটিক এয়ারকে আকাশ পথে নিরাপদে উড্ডয়নের ক্লিয়ারেন্স প্রদান করেন।’
৬২৩১ নং ফ্লাইটটির নিরাপদ উড্ডয়নের পর ৭.৫ ম্যাগনিচিড মাত্রায় ভূমিকম্প ও সুনামি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। কমপক্ষে ৮৩২ জন লোকের নিশ্চিত প্রাণহানি ঘটে।


ভূমিকম্পমান অবস্থার এক পর্যায়ে অগুং টাওয়ারের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়লে পা ভেঙ্গে যায় তার। গুরুতর আহত হন তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যে তাকে কাছের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্যে নিয়ে যাওয়ার জন্যে হেলিকপ্টার এসে পৌঁছানোর আগেই তিনি জীবনের সীমানা অতিক্রম করে অনন্তে চলে যান।
ওই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কোম্পানী অগুং-এর এই অসাধারণ আত্মত্যাগের জন্যে পদমর্যাদা দুই স্তর উপরে উন্নীত করবে।