ইরানে বিষাক্ত মদ খেয়ে অন্তত ৪২ জন নিহত

ইরানে ভেজাল মদ পান করার পর কমপক্ষে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। স্থানীয়ভাবে তৈরি এই ভেজাল মদ খেয়ে আরও ১৬ জন অন্ধ হয়ে গেছেন ও ১৭০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইরাজ হারিরচি বলেন, গত তিন সপ্তাহে দেশটির ৫টি প্রদেশে কমপক্ষে ৪৬০ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে কনিষ্ঠ ব্যক্তি হলেন একজন ১৯ বছরের নারী।alcoholic-drink-in-small-glasses-1024x678

ইরানে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ হলেও স্থানীয়ভাবে তৈরি করা মদের ব্যাপক বিস্তৃতি রয়েছে। এসব মদে অনেক সময় ইথানলের বদলে বিষাক্ত রাসায়নিক মেথানল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গত সপ্তাহে বন্দর আব্বাস শহরের এক বাড়িতে এই মদ তৈরির সময় এক দম্পতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিবিসি ফার্সি’র প্রতিবেদক রানা রহিমপুর বলেন, বিষাক্ত মদ খেয়ে অসুস্থ বা মারা যাওয়ার ঘটনা ইরানে নতুন নয়। তবে এত বেশি মাত্রায় মৃত্যুর ঘটনাটি বিস্ময়কর। আর এই সমস্যাটি প্রায় সব প্রদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। একজন বিশ্লেষক বিবিসি ফার্সি’কে বলেছেন, তিনি মনে করেন অর্থনৈতিক প্রভাব এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার দাম কমে যাওয়ায় লোকজন হয়তো সস্তা কিছু খুঁজছে। কারণ, আমদানি করা বিদেশি মদের তুলনায় এসব মদের দাম অনেক কম হয়।

ইরানের মাদকবিরোধী কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রতিবছর ৭৩ কোটি ডলারের ৮ কোটি লিটার মদ চোরাইপথে ইরানে প্রবেশ করে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরানের মুসলিমদের জন্য মদ খাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ইরানের ইসলামি দণ্ডবিধির ২৬৫ ধারা মোতাবেক কোনও মুসলিমের জন্য মদ খাওয়ার শাস্তি হলো ৮০টি দোররা। তবে অমুসলিমদের জন্য এই বিধান বেশ শিথিল। সেখানে ইউকারিস্টের মতো অমুসলিমরা নিজেদের খাওয়া বা ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বাড়িতেই মদ উৎপাদন করতে পারেন।