এনজাইম গবেষণায় নতুন ধরনের প্রোটিন ও এনজাইম আবিষ্কার করে রসায়নে নোবেল পেলেন মার্কিন রসায়নবিদ ফ্রান্সেস আর্নোল্ড ও জর্জ পি স্মিথ এবং ব্রিটিশ রসায়নবিদ গ্রেগরি উইনটার। বুধবার এই তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স।
নোবেল জয়ী এই তিন বিজ্ঞানী নতুন প্রোটিন ও এনজাইম তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন।। ডিরেক্টেড এভুলশন নামে এক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন তারা। নতুন ধরনের ওষুধ ও জৈব জ্বালানি তৈরিতে এই প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হচ্ছে।
পাসাডেনার কালটেকের বিজ্ঞানী ফ্রান্সেস আরনল্ডই প্রথম প্রাকৃতিক এক প্রযুক্তির অনুকরণ করে এনজাইম তৈরি করেছেন। মূলত প্রাকৃতিক এনজাইম থেকে এই ধারণা পান তিনি। এনজাইম এক ধরনের জৈব-রাসায়নিক অনুঘটক বা উৎসেচক পদার্থ। এনজাইম বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত বা গতি দান করে। আরনল্ড এর উদ্ভাবনের মাধ্যম এখন নতুন নতুন এনজাইম তৈরি করা হচ্ছে।
আর জর্জ পি স্মিথ ও স্যার গ্রেগরি উইনটার আমিষ তৈরির নতুন এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন। এক্ষেত্রে তারা ব্যাটেরিওফাজ ব্যবহার করেছেন। এটা এক ধরনের ভাইরসা যা ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে। এতে নতুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস হয়। আর মাধ্যমে তৈরি হয় নতুন প্রোটিন।
এর আগে, গত বছর ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপির উন্নতির জন্য বিশেষ অবদান রাখায় জ্যাকস দুবোশে, জোয়াশিম ফ্রাঙ্ক এবং রিচার্ড হেন্ডারসন রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান।
নতুন উদ্ভাবন, গবেষণা এবং মানব জাতির কল্যাণে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রত্যেক বছর নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। সুইডিশ ব্যবসায়ী ও ডিনামাইট আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছা অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিয়ে আসা হচ্ছে।