চীনকে সতর্ক করতে বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিতে এবং চীনকে সতর্ক করতে বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শনের বিষয়টি পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। একাধিক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, এই শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্য থাকবে চীনের সামরিক পদক্ষেপের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি থাকার কথা জানান দেওয়া। এই পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এখবর জানিয়েছে।

180810094619-07-cnn-south-china-sea-0810-spratly-chain-exlarge-169

সিএনএন জানায়, প্রস্তাবিত খসড়া পরিকল্পনায় নভেম্বর মাসে এক সপ্তাহে একাধিক অভিযান পরিচালনা করবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনী। এই অনুশীলনে যুক্ত থাকবে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সেনারা। এতে দেখানো হবে, যুক্তরাষ্ট্র যে কোনও সম্ভাব্য হামলা বিভিন্ন দিক থেকে দ্রুততার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে।

পরিকল্পনা অনুসারে, মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ ও জঙ্গিবিমান দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা জলসীমা ও তাইওয়ান প্রণালী নেভিগেশন অপারেশন পরিচালনা করবে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌ চলাচলের অধিকারকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরবে। এই পরিকল্পনার অর্থ হচ্ছে, মার্কিন জাহাজ চীনা সেনাদের কাছাকাছি থাকবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এই মহড়ায় চীনাদের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার কোনও লক্ষ্য নেই।

বছরজুড়েই ওই অঞ্চলে চীন বিভিন্ন অভিযান চালালেও প্রস্তুাবিত পরিকল্পনায় মার্কিন নৌবাহিনীর বিভিন্ন মিশনকে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে একত্রিত করা হবে।

অবশ্য প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনার কথা সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর। মার্কিন প্যাসিফিক ফ্লিটও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দুইটি যুদ্ধজাহাজ খুব কাছাকাছি চলে আসার পর অল্পের জন্যে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে বিমান থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর তোলা এ সংক্রান্ত কিছু ছবিতে দেখা যায়, দুই রণতরী ঠিক কতটা কাছে চলে এসেছিল। মূলত চীনা যুদ্ধজাহাজটি সেখানে মার্কিন রণতরীর উপস্থিতিকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল।বেইজিং বলছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডেকাটুর সাগরের স্প্র্যাটলি আইল্যান্ডস দ্বীপের গ্যাভেন অ্যান্ড জনসন রিফের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ সময় ‘চীনের লুয়াং ডেস্ট্রয়ারটি ডেকাটুরের ৪৫ গজের মধ্যে চলে আসে।’ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বলছে, চীনা জাহাজটি তাদের রণতরীর এতোটাই কাছে পৌঁছে গিয়েছিল যা কোনওভাবেই 'নিরাপদ নয় এবং অপেশাদারসুলভ।'

সাগরের এই জলসীমা ও দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বহু বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এসব দ্বীপের মালিকানা নিয়ে তারা এর আগে পরস্পরকে হুমকিও দিয়েছে। ওই জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচলের ঘটনা নিয়ে চীনের সঙ্গে প্রায়ই উত্তেজনা তৈরি হয়।

এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও এসব রিফ ও দ্বীপের মালিকানা নিয়ে চীনের বিরোধ রয়েছে। তাইওয়ান, ফিলিপাইন, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া এবং ভিয়েতনাম এই জলসীমা তাদের নিজেদের বলে দাবি করে থাকে। কিন্তু জাহাজ চলাচলের জন্যে এই এলাকাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। চীন যে এলাকাটি তাদের নিজেদের বলে দাবি করে সেটি সাগরের বিস্তৃত একটি এলাকা। এই অংশের নাম 'নাইন-ড্যাশ লাইন।'

বেইজিং-এর পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযোগ করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় হস্তক্ষেপ করে আঞ্চলিকভাবে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে এই অভিযোগ সবসময়ই অস্বীকার করে এসেছে ওয়াশিংটন।