আল-আকসা মসজিদের পাশের দুটি ভবন দখল ইসরায়েলিদের

অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদের পাশে দুটি ফিলিস্তিনি ভবন দখল করেছে ইসরায়েলিরা সেটেলাররা। শুক্রবার সকালে শহরে মুসলিম কোয়ার্টারে হঠাৎ করেই ঢুকে পরে ইসরায়েলিরা। ভবনটি একটি ক্লিনিক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিলো। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পর্যবেক্ষণের ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

2018_7-22Over-1000-Jewish-settlers-converge-on-Al-Aqsa-complex20180722_2_31571988_35847983

আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণটি একইসঙ্গে মুসলিম ও ইহুদিদের জন্য পবিত্র স্থান বলে বিবেচিত হয়। মুসলিমরা একে আল হারাম আল শরিফ নামে ডেকে থাকেন। আর ইহুদিরা এ স্থানটিকে ডাকেন টেম্পল মাউন্ট নামে। ১৯৬৭ সালে যখন ইসরায়েল এই এলাকায় প্রবেশাধিকার পায় তখন শুধু মুসলিমরাই আল-আকসায় নামাজ পড়তে পারতো। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় প্রার্থনার সুযোগ পেত ইহুদিরা। মেনে চলতে হতো অনেক নিয়ম। বিগত ৫০ বছরে এই চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। ইসরায়েল এখন আল আকসার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ ও ইহুদি সংগঠনগুলোর মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা হতে দেখা গেছে। ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা, ইসরায়েলি কট্টরপন্থীরা আল আকসা প্রাঙ্গণের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।

গত দুইদিনে এই নিয়ে দ্বিতীয় ভবন দখল করলো ইসরায়েল। অবৈধ ইসরায়েলি সেটেলাররা এর আগেও এমন করেছেন। অনেকবারই ফিলিস্তিনিদের ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন তারা। বাতান আল হাওয়ার সিটি অব ডেভিডের জাতীয় উদ্যানে চলে এমন পরিকল্পনা চলে। আগস্ট মাসে সেখানে হেরিটেজ সেন্টার নামে একটি অংশ চালু করা হয়। এটি উদ্বোধন করেন মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। এক ফিলিস্তিনি বলেন, আমরা আগে থেকেই জানতাম যে সবই পরিকল্পনার অংশ।

২০০২ সাল থেকে বাতান আল হাওয়ার অন্তত ৭০০ জন ফিলিস্তিনিকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে িএই জমি পায় ভেনভেনিসতি ট্রাস্ট। আর এই সংগঠনটি মূলত ডানপন্থী ইহুদীবাদী সংগঠন আতরেত কোহানিমের একটি সংস্থা। তারা ফিলিস্তিনি এলাকায় ইহুদীদের অবৈধ বসতিকে সমর্থন করে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১শরও বেশি বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে স্থাপিত প্রায় ১৪০টি বসতিতে ৬ লাখেরও ইসরায়েলি বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও ইসরায়েল তা মানতে চায় না।