মিয়ানমারে পশ্চিমা প্রভাব ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে চীন: মার্কিন প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশ ও প্রভাব নিশ্চিত করতে চায় চীন। ভূকৌশলগত স্বার্থ সংরক্ষণে দেশটিতে পশ্চিমা–বিশেষ করে মার্কিন প্রভাব ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা। বিশেষ করে চীন-মিয়ানমারে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীন সংঘাতে চীনের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব পিস (ইউএসআইপি)।noname
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে একজন চীনা দূত সংঘাত কবলিত উত্তর এবং পূর্বাঞ্চলীয় মিয়ানমারে তার মার্কিন প্রতিপক্ষকে যেতে নিষেধ করেছে। এই অঞ্চলে নৃতাত্ত্বি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চীনের প্রভাব রয়েছে।

প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে শুরুর দিকে নতুন আসা চীনের রাষ্ট্রদূত মার্কিন দূতকে কাচিন এবং শান প্রদেশের পূর্বাঞ্চলের যেতে নিষেধ করেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ‘চীনের স্বার্থকে সম্মান জানানো উচিত’। তবে তিনি ব্যর্থ হন। মার্কিন দূতাবাসের একটি বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে ইউএসআইপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় নিজেদের শক্ত উপস্থিতি চায় চীন।

তবে এই বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র আরিয়ানি মানরিং মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতিকে বলেছেন, ‘মার্কিন দূত পুরো দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তিনি নিয়মিত দেশের সব অঞ্চল ভ্রমণ করেন’। তবে রিপোর্টে উল্লেখিত বিবৃতির অস্তিত্ব অস্বীকার করেন তিনি। তাছাড়া কোন দূততে উদ্ধৃত করা হয়েছে তাও নির্দিষ্ট করতে চাননি তিনি।

তবে ইরাবতির ধারণা সাবেক মার্কিন দূত ডেরেক মিচেল হতে পারেন তিনি। ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মিয়ানমারে কর্মরত ছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম এই শীষর্ কূটনীতিক ইউএসআইপি’র চীন-মিয়ানমার অধ্যয়ন কেন্দ্রেরও কো চেয়ার। এছাড়া নতুন আসা চীনা দূত হতে পারেন হং লিয়াং। তিনি ২০১৫ সালের জুলাইতে তিনি বেইজিংয়ের দূতাবাসে যোগ দেন। ইয়াঙ্গুনের দূতাবাসের তরফ থেকেও ইরাবতির মন্তব্যের আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া হয়নি।

ইউএসআইপি’র প্রতিবেদনে, দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার সংযোগ সড়ক এবং বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকায় মিয়ানমারের অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের অবস্থানই তাকে অনন্য করেছে, বিশেষ করে মার্কিন-চীন সহযোগিতার ক্ষেত্রে।

দুই দশকের শীতল দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্কের পর ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো মিচেলকে ইয়াঙ্গুনে দূত নিয়োগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারে আসার পাঁচ মাস পর তিনি প্রথমবার তিনি কাচিন সফরে যান। সেখানে সরকারি বাহিনী ও কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কিআইএ)-র মধ্যকার লড়াইয়ে শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে সহায়তা করতে পারে তা চিহ্নিত করতেই ওই সফরে যান তিনি। চীনের সীমান্তবর্তী প্রদেশটিতে তিনি কমপক্ষে দুইবার সফর করেছেন।