বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয় কোমল পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোকাকোলা, পেপসি ও নেসলে পণ্যের কারণে। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন গ্রিনপিস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে।
‘ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক’ আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করে গ্রিনপিস ৪২টি দেশে মোট ২৩৯ অভিযান চালিয়েছে। এতে করে ১ লাখ ৮৭ হাজার পিস প্লাস্টিক পণ্য হিসেব করেছে তারা। এর উদ্দেশ্য ছিলো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কি পরিমাণ পরিবেশ দূষণ করছে তার বের করে আনা। আর সেই অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য আসে কোকা কোলার পানীয় পণ্য থেকে। গ্রিনপিস জানায়, ৪২টির মধ্যে ৪০টি দেশেই তারা কোকা কোলার প্লাস্টিক বর্জ্য পেয়েছে।
‘ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক’ এর সমন্বয়ক ভোন হার্নান্দেজ বলেন, সবচেয়ে সাধারণ প্লাস্টিক ছিলো পলিস্তিরিন। ফোমের কফি কাপ থেকে শুরু করে পণ্য মোড়াইয়ের কাজে ব্যবহৃত হয় এটা। এরপর ছিলো পেট প্লাস্টিক। মূলত বোতল ও কন্টেইনারে ব্যবহার করা হয় এই প্লাস্টিক। তিনি বলেন, এই জরিপের স্পষ্ট যে বৈশ্বিক প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরিতে করপোরেশগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
কোকা কোলার এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরাও গ্রিনপিসের মতো সাগর থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ করতে চাই। এই সংকট মোকাবেলায় আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনের প্রস্তুত।’ প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০ সালের মধে সব বোতল পুনঃব্যবহর প্রক্রিয়া শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এছাড়া পেপসি ও নেসলেও তাদের মোড়কের ব্যাপারে পরিবর্তন আনার কথা বলেছে। কোক জানিয়েছে তাদের পণ্যর মোড়ক পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করা হবে। নেসলে জানিয়েছে তাদের মোড়কও পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হবে। একই কথা বলেছে পেপসিও।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নেসলে জানিয়েছে, তারা এই সংকট আমলে নিয়েছে এবং সমাধানের চেষ্টা করছে। তারা বেশ কিছু সমাধানের উপায় নিয়ে ভাবছে। পেপসিকো থেকে তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি।