ইদলিবের সেনামুক্ত অঞ্চল থেকে অস্ত্র সরিয়ে নিয়েছে বিদ্রোহীরা

সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি ইদলিবের প্রস্তাবিত সেনামুক্ত অঞ্চল থেকে ভারী অস্ত্র সম্পূর্ণরুপে সরিয়ে নিয়েছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। বেসামরিকদের রক্ষায় তুরস্কের এই উদ্যোগ সফল হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এখনও বেশি কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে আঙ্কারার। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

29640796dba14e50aa4c1f22f0517581_18

ইদলিব সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি। বিগত কয়েক মাসে সামরিক হামলা জোরালো করার মধ্য দিয়ে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল থেকে আসাদ বিদ্রোহীদের সরিয়ে দেওয়া হলে তারা ইদলিব প্রদেশে জড়ো হয়। ২০১৫ সাল থেকে শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বিদ্রোহীরা। তবে দৃশ্যত ভয়াবহ বিমান হামলার মাধ্যমে শহরটির নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে যাচ্ছে রাশিয়ার মিত্র আসাদ বাহিনী। ইরান ও রাশিয়া দুই দেশই পুরো সিরিয়ার ওপর আসাদ বাহিনীর কর্তৃত্ব দেখতে চায়। বিপরীতে আসাদ বাহিনীর হামলা থেকে বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষার ওপর জোর দেয় তুরস্ক।

তুর্কি সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (এনএলএফ) জানিয়েছে তারা সম্পূর্ণরুপে ভারী অস্ত্রগুলো সরিয়ে নিয়েছে। মুখপাত্র নাজি আল মুস্তাফা বলেন,‘আমরা ট্যাংক ও কামানসহ সব বড় অস্ত্র সরিয়ে ফেলেছি। এখন আর এগুলো রুশ যুদ্ধবিমান যেন লক্ষ্য করতে না পারে। তবে আত্মরক্ষার জন্য আমরা ছোট ও হালকা অস্ত্র রেখে দিয়েছি।’

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার পর্যটন নগরী সোচিতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। বৈঠকে ইদলিব অঞ্চলে রুশ ও তুর্কি সেনাদের মধ্যে একটি অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা সেনামুক্ত অঞ্চল ঘোষণার ব্যাপারে দুই নেতার মধ্যে সমঝোতা হয়। এ সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানায় ইরান।  তিন দেশের এই সমঝোতায় আসাদ সরকার বড় এক হামলা থামিয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছিলো, এই হামলা হলে ভয়াবহ মানবেতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারতো।

বিগত দিনগুলোতে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে তুরস্ক সেখানে অবজারভেশন পোস্ট স্থাপন করেছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সেনামুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা প্রথম ধাপ। ইস্তাম্বুলে বসবাসরত সিরীয় গবেষক আহমেদ আবাজায়েদ বলন, এখনও তুরস্ক ও রাশিয়াকে অনেক কাজ করতে হবে। সেনামুক্ত অঞ্চলের এই চুক্তি মূলত দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতার প্রথম ধাপ।