সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে রিয়াদ থেকে একটি প্রতিনিধিদল তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছেছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর দিয়েছে। আনাদোলু বলছে, সৌদি প্রতিনিধিদল যৌথ তদন্তে অংশ নেয়ার জন্য তুরস্কের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সাক্ষৎ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জামাল খাশোগি এক সময় সৌদি সরকারের উপদেষ্টা থাকলেও এক পর্যায়ে সরকারের নানা কাজের সমালোচনা করা শুরু করেন এবং ২০১৭ সাল থেকে তিনি আমেরিকায় স্বেচ্ছা-নির্বাসনে চলে যান। সেখানে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। গত সপ্তাহে তিনি বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের সৌদি কন্স্যুলেটে যান কিন্তু ভবনে প্রবেশের পর তিনি আর বের হন নি। সৌদি সরকার দাবি করছে, ভবন থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছেন খাশোগি। কিন্তু তুর্কি সরকার বলছে, তাদের হাতে প্রমাণ রয়েছে যে, সৌদি আরব খাশোগিকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় সৌদি সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপের মুখে পড়েছে।
সৌদি সূত্রকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রিন্স খালেদ আল ফয়সাল বৃহস্পতিবার তুরস্কে সফর করেছেন। খাঁশোগি নিখোঁজের বিষয়ে তুরস্কের সঙ্গে আলাপ করেছেন তিনি। তার সঙ্গে আলোচনার পরে তুরস্কের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, রিয়াদের উদ্যোগে দেশ দু’টি এই বিষয়ে যৌথভাবে তদন্ত করতে রাজি হয়েছে। সৌদির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এসপিএর এক প্রতিবেদনে এক সৌদি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, তাদের অনুরোধে একটি টিম গঠনের বিষয়ে তুরস্কের অনুমোদনকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সৌদি এসপিএর এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে, সৌদির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সৌদ বিন নাইফ তুরস্কের মিথ্যাচারের নিন্দা জানিয়েছেন। সৌদির বিরুদ্ধে খাশোগিকে হত্যার খবর মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে তিনি তুরস্কের সঙ্গে যৌথ তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। সৌদির প্রতিনিধি দলটি এখন ইস্তাম্বুলে অবস্থান করছে। তারা তুরস্কের তদন্তকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে খাশোগি নিখোঁজের বিষয়ে তদন্ত করবে।