সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে চান না ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বন্ধ করা হবে আত্মঘাতী। সাংবাদিক জামাল খাশোগির অন্তর্ধান নিয়ে রিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভেতরে বাইরে চাপ বাড়তে থাকার মধ্যে শনিবার তিনি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছেন, অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করা হলে নিজেদেরই শাস্তি দেওয়া হবে। চলতি বছরের মার্চে সৌদি আরবের কাছে ১২৫০ কোটি মার্কিন ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াদের কড়া সমালোচক খাশোগিকে খুনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও কি ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা পরিস্কার করেননি তিনি।এই বছরের মার্চে আরবের কাছে ১২৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করেছে ওয়াশিংটন
রিয়াদের কড়া সমালোচক জামাল খাশোগি গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। তুরস্ক সরকারের বিশ্বাস কনস্যুলেটের মধ্যেই তাকে খুন করে মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস-এর ‘সিক্সটি মিনিট’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, খাশোগিকে খুনের প্রমাণ পেলে রিয়াদকে কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

ওই সাংবাদিকের ভাগ্যে কি ঘটেছে তার জানার জন্যে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র ট্রাম্পের ওপর ভেতরে বাইরে চাপ অব্যাহত রয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা রিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ট্রাম্পের কাছে দাবি জানান। ইয়েমেন যুদ্ধে বেসামরিক প্রাণ হত্যা নিয়ে  সৌদি জোটের বিরুদ্ধে আগে থেকেই উদ্বেগ রয়েছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা বলেছেন, খাশোগিকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে রিয়াদের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করা উচিত ওয়াশিংটনের।

শনিবার ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন সৌদি আরবের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির আদেশ পেয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেও বিনিয়োগ করছে সৌদি আরব। তাতে হাজার হাজার মার্কিনির কাজে সুযোগ সৃষ্টি হবে।  তিনি বলেন, ‘তারা যদি এটা আমাদের কাছ থেকে না কেনে তাহলে তারা এটা রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে কিনবে। চিন্তা করে দেখুন, শত শত কোটি টাকা। আর এর সবটাই অন্যদেশগুলোকে দিয়ে দেবে তারা। আমার মনে হয় এটা করা হবে বোকামি’।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা যদি তা করি তাহলে আমার মনে হয় সেটা নিজেদেরই শাস্তি দেওয়া। আমাদের করার মতো আরও অনেক কিছু রয়েছে আর সেগুলো খুব শক্তিশালী এবং কঠিন হবে, আর আমরা সেগুলো করবো। তবে সেই ব্যবস্থা কি হবে সে সম্পর্কে কিছু বলেননি তিনি।

মার্কিন আইন অনুযায়ী বড় বড় সামরিক বিক্রি আটকে দিতে পারে কংগ্রেস। সরবরাহ করা কোনও অস্ত্র বেসামরিক হত্যায় ব্যবহার হচ্ছে এমন উদ্বেগ তৈরি হলে গুরুত্বপূর্ণ আইনপ্রণেতারা ‘স্থগিত’ নামে পরিচিত একটি অনানুষ্ঠানিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের শীর্ষ সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা চুক্তিকারী লকহেড মার্টিন কর্পোরেশন ও রাইথিয়ন কো.।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেবেন ট্রাম্প তা এখনও পরিস্কার নয়। আরেক শীর্ষ তেল রফতানিকারক ইরানের বিরুদ্ধে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই কারণে সৌদি আরবকে তেল রফতানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এই সপ্তাহের শেষে সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে আলাপ করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমার মনে হয় কি ঘটেছে তা তার কাছে জানতে চাওয়াটাই আমার জন্য ঠিক হবে।