খাশোগির মরদেহ ফেরত চায় স্বজনরা

হত্যাকাণ্ডের শিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগির স্বজনরা মরদেহ ফেরত দিতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তুর্কিশ-আরব মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান এবং খাশোগির বন্ধু তুরান কিসলাস্কি সৌদি কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে বলেছেন, ১৮ জনের গ্রেফতার যথেষ্ট নয়। তারা চান এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতার বিচার।

noname

 

২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন জামাল খাশোগি। শুরুতে সৌদি আরব দাবি করেছিল তিনি ভবন থেকে জীবিত বের হয়ে গেছেন। তুরস্ক দাবি করে, ১৫ সদস্যের একটি গোয়েন্দা স্কোয়াড কনস্যুলেটের ভেতরেই খাশোগিকে হত্যা করেছে। সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করে এলেও শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো তারা খাশোগি নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে। সৌদি আরবের দাবি, খাশোগি কনস্যুলেটে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়।

সৌদি আরবের ইস্তানবুল কনস্যুলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তুর্কিশ-আরব মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান তুরান কিসলাস্কি। সৌদি আরবের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জামালকে ফেরত দেন, যেন আমরা তার দাফন আর জানাজা করতে পারি। যেন সব মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন, যেন বিশ্বনেতারা ইস্তানবুলে এসে তার জানাজায় অংশ নিতে পারেন’।

জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেফতার ও পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে তুরান কিসলাস্কি বলেছেন, ‘আমরা জামালের জন্য সুবিচারের প্রত্যাশী। ১৮ জনের গ্রেফতার যথেষ্ট নয়। যারা এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, আমরা তাদের বিচার চাই’।
তুর্কি কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করে আসছেন, খাশোগির মরদেহ টুকরো টুকরো করে কাটা হয়েছে। সৌদি আরব দাবি করছে, খাশোগির মরদেহ তাদের কাছে নেই। সৌদি রাজদরবারের এক ঘনিষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, খাশোগির মরদেহের খোঁজ সৌদি আরবের কাছে নেই। ওই সূত্র সিএনএনকে বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্থানীয় সহযোগীদের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়েছে। সিএনএন এখনও এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ে সমর্থ হয়নি।