ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলেন খাশোগির বাগদত্তা

হত্যাকাণ্ডের শিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগির বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিসকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের স্ব-বিরোধিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার মন্তব্যের মধ্য দিয়ে কেবল সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। হেতিস জানিয়েছেন, হত্যা তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র যথাযথ পদক্ষেপ নিলেই কেবল তিনি হোয়াইট হাউসে যাওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন।হেতিস চেঙ্গিস, যার সঙ্গে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিলো খাশোগির
২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। ১৯ অক্টোবর (শুক্রবার)  মধ্যরাতে প্রথমবারের মতো তার নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, খাশোগিকে হত্যার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। তিনি কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

১৯ অক্টোবর শুক্রবার হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরবরাহকৃত সৌদি ব্যাখ্যাকে ‘গ্রহণযোগ্য’ দাবি করলেও শনিবার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে শামিল হয়ে ট্রাম্প বলেন, ব্যাখ্যাই যথেষ্ট নয়। সত্য উন্মোচনের আগ পর্যন্ত তিনি সন্তুষ্ট নন। রবিবার (২২ অক্টোবর) ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর দাবি করেন, ‘নীতিবিবর্জিত এ অভিযানের’ ব্যাপারে সৌদি নেতৃত্ব জানতো না। ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো হত্যাকাণ্ডকে ইতিহাসের জঘন্যতম গুম আখ্যা দেন ট্রাম্প। একই দিনে সৌদি যুবরাজের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে একমত হন তিনি। তবে  ট্রাম্প শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত সৌদি আরবের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা নাকচ করে যাচ্ছেন। তিনি বলছেন, এ ঘটনার জেরে দুই দেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা বাণিজ্য সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়বে না। খাশোগির বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিস ট্রাম্পের অবস্থানকে স্ব-বিরোধী আখ্যা দিয়েছেন।

খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার দিনে তার সঙ্গেই ছিলেন তুর্কি বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিস। বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতেই ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেছিলেন খাশোগি। কূটনৈতিক সূত্র ও খাশোগির এক বন্ধু ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের কাছে দাবি করেছে, হত্যা পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই খাশোগিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুরস্ক পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছিল। তার বাগদত্তা হেতিস সরকারপন্থী তুকিঙ সংবাদমাধ্যম হাবার তার্ক-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাকে আমন্ত্রণ জানানোর কাছাকাছি সময়েই ট্রাম্প স্ববিরোধী বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। ‘তার অবস্থান কেবলই সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা’।

এরআগে হেতিস নিজেই ওয়াশিংটন সফরের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। গত সপ্তাহে বলেছিলেন, যদি ট্রাম্প ‘ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে আদতে সেদিন কী ঘটেছিল, তা উন্মোচনের প্রচেষ্টায় ট্রাম্প যদি সামিল হন’ তাহলে তিনি হোয়াইট হাউস পরিদর্শনে যাবেন। তবে শুক্রবারের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সত্যিকারের পদক্ষেপ নিলেই কেবল তিনি হোয়াইট হা্‌উসে যেতে রাজি আছেন।