মিসরের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার প্রতিরোধ সংগঠন ইসলামিক জিহাদ। শনিবার দলটি জানিয়েছে, তারা গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের ওপর রকেট হামলা চালানো বন্ধ করবে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, শুক্রবার রাতে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের চালানো অন্তত ৩০টি রকেট হামলার জবাবে হামাসের নিরাপত্তা সদর দফতরসহ বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার গাজায় ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ কর্মসূচিতে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ৫ ফিলিস্তিনি নিহত হন।
১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরায়েলের দখলদারিত্ব থেকে নিজেদের মাতৃভূমির দখল ঠেকাতে বিক্ষোভে নামলে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে নিহত হন ৬ ফিলিস্তিনি। পরের বছর থেকেই ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামে ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। গত শুক্রবার ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে এবছরে এই কর্মসূচিতে নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে গাজা থেকে প্রায় ৩০টি রকেট হামলা চালানো হয়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রাতভর বাজানো হয় বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন। এর জবাবে শনিবার ভোরে গাজার প্রায় ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে হামাসের নিরাপত্তা সদর দফতরও রয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলছে, আঘাত হানার আগে প্রায় ১০টি রকেট প্রতিহত করতে সক্ষম হয় তাদের আয়রন ডোম রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আর দুটি ভুল করে গাজাতেই বিস্ফোরিত হয়। বাকিগুলোর বিস্ফোরণ হয় খালি জায়গাতে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল গাদি আইসেনকোট শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করেছেন। এসব বিমান হামলায় কতজন হতাহত হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
রকেট হামলার কথা স্বীকার করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের অপেক্ষাকৃত ছোট সংগঠন ইসলামিক জিহাদ। এক বিবৃতিতে সংগঠনটির তরফে বলা হয়েছে, সাধারণত তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধে বিশ্বাস করে কিন্তু ইসরায়েলি দখলদারদের নিরীহ মানুষ হত্যা ও রক্তপাত চালানোর মধ্যে তারা নিশ্চুপ বসে থাকতে পারে না।
হামাসের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব রকেট হামলা চালানো হয়েছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ইসরায়েলের তরফ থেকে তাদেরকেই দায়ী করা হয়েছে। ২০০৭ সালে এক বৈধ নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকে গাজার শাসন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। গত এক দশকে হামাসের সঙ্গে তিনবার যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরায়েল। সর্বশেষ গত শুক্রবারের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলো গাজার আরেক প্রতিরোধ সংগঠন ইসলামিক জিহাদ। দলটির মুখপাত্র দাউদ শিহাব আনাদোলু এজেন্সি’কে বলেছেন, মিসরীয়রা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের পর আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছি। যতদিন ইসরায়েল এটি মেনে চলবে, ততদিন আমরাও এটি মেনে চলতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে মধ্যস্থতা করায় মিসরকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইসলামিক জিহাদ। এদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে নিক্ষেপ করা যে কোনও রকেট হামলার জন্য দায়ী থাকবে সেখানকার ক্ষমতাসীন দল হামাস। ইসরায়েলি ভূখণ্ডে যে-ই রকেট নিক্ষেপ করুক তার দায়ভার হামাসকেই নিতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে তেল আবিব। সূত্র: আল জাজিরা।