অচিরেই ১২ শিয়া মুসলিমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে সৌদি আরব: অ্যামনেস্টি

সৌদি আরবে আটক শিয়া সম্প্রদায়ের ১২ জনের যেকোনও সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টার‌ন্যাশনাল। সংস্থাটি জানতে পেরেছে, ইতোমধ্যে ওই ১২ জনের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সরকারি সংস্থা প্রেসিডেন্সি অব স্টেট সিকিউরিটিতে পাঠানো হয়েছে। এই ১২ জনকে ২০১৬ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিলো। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন তারা। তবে অ্যামনেস্টি একে খুবই ‘অসচ্ছ গণবিচার’ বলে দাবি করেছে।

 Saudi flag AFP

সৌদি আরবের বিচারিক প্রক্রিয়া গোপন রাখা হয়। নতুন সরকারি সংস্থায় কখন বন্দিদের পাঠানো হয় তা সাধারণত জানা যায় না। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বন্দি শিয়াদের পরিবার জানতে পারে যে ‍সুপ্রিম কোর্ট তাদের সাজা বহাল রেখেছে।  অর্থাৎ বাদশাহ সালমানের ইশারা পেলে যেকোনও সময় তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। আর প্রেসিডেন্সি অব স্টেট সিকিউরিটিতে নিয়ে যাওয়া মানে সেই প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। ২০১৭ সালে দ্য প্রেসিডেন্সি অব স্টেট সিকিউরিটি গঠন করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাদশার কর্তৃত্ব বাড়াতেই এই সংস্থা তৈরি।

জুনে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি সরকার তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে হাতিয়ার করে মানবাধিকার কর্মীদের দমন করছে। সেখানে বলা হয়, ‘যারা শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ করতে চায় তাদের কাঠামোবদ্ধভাবে বিচার করে সৌদি আরব। অনেকেই কারাভোগ করছেন আর অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অ্যামনেস্টির অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন ৩৪ সৌদি শিয়া। এরমধ্যে চারজন শিশুও রয়েছেন। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক হেবা মোরায়েফ বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সৌদি আরব। প্রায়ই দেশটিতে এই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় রাজনৈতিক কারণে। জীবনের কোনও মূল্য দেওয়া হয় না।’

গত মাসের শেষদিকে জাতিসংঘের  বিশেষজ্ঞরা ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আহ্বান জানায়। কারণ অপরাধ সংঘটনকালে তারা সবাই শিশু ছিলো। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুদের কখনোই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত নয়। এটা আন্তর্জাতিক আইন ও শিষ্টাচার বহির্ভূত।